নয়াপল্টনে কূটনৈতিক সাড়া
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন নরেন্দ্র মোদি
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উদ্বেগ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া বার্তায় তিনি খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং প্রয়োজনে ভারতের পক্ষ থেকে যেকোনও সহায়তা প্রদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
মোদি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণজীবনে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছেন। তাই তার অসুস্থতার খবর ভারতের জন্যও গভীর উদ্বেগের। তিনি লিখেছেন, খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং প্রয়োজন হলে ভারত বাংলাদেশকে সবরকম সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
খালেদা জিয়াকে ২৩ নভেম্বর রাত ৮টায় গুরুতর শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগ— হৃদরোগ, লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস ও কিডনি জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছেন। পরে নিউমোনিয়া পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কায় ২৭ নভেম্বর তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে চিকিৎসায় অগ্রগতি ও উন্নত ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সোমবার বিকেলে চীন থেকে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় পৌঁছেছেন। এভারকেয়ার হাসপাতালেই তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পরিকল্পনায় যুক্ত হবেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার আরও বড় চিকিৎসকদল আসার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নরেন্দ্র মোদির বার্তা শুধু সৌজন্যমূলক প্রতিক্রিয়া নয়—এটি ঢাকায় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া—সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।
দেশবাসী ও সমর্থকদের দোয়া ও অপেক্ষার মাঝে এখন নজর এভারকেয়ার হাসপাতালের দিকে—সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে কতটা সাড়া দেন এবং বিদেশি চিকিৎসকদের যুক্ত হওয়ায় কতটা উন্নতি হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সবার দেশ/কেএম




























