তেলের স্বার্থে ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের অভিযান: কমলা হ্যারিস
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপকে তেলকেন্দ্রিক, বেআইনি ও অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তিনি বলেছেন, এ পদক্ষেপ আমেরিকাকে নিরাপদ, শক্তিশালী কিংবা সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী করে তুলছে না।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া এক পোস্টে কমলা হ্যারিস বলেন,
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো একজন নিষ্ঠুর ও অবৈধ স্বৈরশাসক—এ বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে সে যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্পের নেয়া পদক্ষেপকে বৈধতা দেয়া যায় না।
হ্যারিস লিখেছেন,
আমরা এ সিনেমা আগেও দেখেছি। শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের নামে যুদ্ধ বা তেলকে শক্তির উৎস হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। শেষ পর্যন্ত তা বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয় এবং এর মূল্য দিতে হয় আমেরিকান পরিবারগুলোকে। আমেরিকান জনগণ এটি চায় না, আর তারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি শুনে ক্লান্ত।
নিজের পোস্টে কমলা হ্যারিস আরও বলেন, এ সংকট আসলে মাদক বা গণতন্ত্র নিয়ে নয়। এটি মূলত তেল এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের আঞ্চলিক শক্তিধর নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। তিনি দাবি করেন, যদি ট্রাম্প সত্যিই মাদক দমন বা গণতন্ত্র নিয়ে চিন্তিত হতেন, তাহলে তিনি একজন দোষী সাব্যস্ত মাদক পাচারকারীকে ক্ষমা করতেন না কিংবা মাদুরোর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সমঝোতা করার সময় ভেনেজুয়েলার বৈধ বিরোধীদের পাশ কাটিয়ে যেতেন না।
কমলা হ্যারিস অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনও আইনি কর্তৃত্ব ছাড়াই সেনাবাহিনীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন, কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছেন এবং একটি পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছেন। অথচ এ অভিযানের কোনও স্পষ্ট প্রস্থান পরিকল্পনা নেই এবং দেশের জনগণের জন্যও এর কোনো প্রত্যক্ষ সুফল নেই।
তিনি বলেন, এমন সিদ্ধান্ত আমেরিকার স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে না নিরাপত্তা বাড়ে, না আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী হয়।
পোস্টের শেষাংশে কমলা হ্যারিস বলেন, আমেরিকার প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যারা কর্মজীবী পরিবারের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কাজ করবে, আইনের শাসন নিশ্চিত করবে, আন্তর্জাতিক জোট শক্তিশালী করবে এবং সর্বোপরি আমেরিকান জনগণকে সবার আগে রাখবে।
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সবার দেশ/কেএম




























