যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপে নিন্দা
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সরকারের এ পদক্ষেপকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ ও ‘সার্বভৌম রাষ্ট্রে হস্তক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজারো মানুষ।
বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধবিরোধী স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে মিছিল করেন। অনেকের হাতেই দেখা যায় ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা। বিক্ষোভে অংশ নেয়া নাগরিকদের দাবি, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সরকারকে জোরপূর্বক উৎখাত করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন করেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, বোস্টন, মিনেপোলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বড় শহরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মানবাধিকার সংগঠন এবং যুদ্ধবিরোধী জোটগুলো সমাবেশে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। একই ঘোষণায় তিনি জানান, ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত দেশটির প্রশাসনিক দায়িত্ব সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করবে।
এ ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সমালোচকরা বলছেন, এটি কার্যত একটি ‘সরকার পরিবর্তন অভিযান’, যা মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অতীত হস্তক্ষেপমূলক নীতিরই পুনরাবৃত্তি।
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত ভেনেজুয়েলা থেকে মার্কিন সেনা ও গোয়েন্দা তৎপরতা প্রত্যাহার, মাদুরো ও তার স্ত্রীর মুক্তি এবং রাজনৈতিক সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
সূত্র: সিএনএন
সবার দেশ/কেএম




























