ইহুদি সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনা
ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা মামদানির
নিউইয়র্ক সিটির ঐতিহ্যবাহী ‘ইসরায়েল ডে প্যারেডে’ অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক-সোশ্যালিস্ট নেতা জোহরান মামদানি। তার এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড মাত্রায় ইহুদিবিদ্বেষ বা অ্যান্টিসেমিটিজম বৃদ্ধির উদ্বেগের মধ্যেই তিনি এ প্যারেড বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
ইসরায়েলের বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইহুদি জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক সিটি। প্রতি বছর আয়োজিত এ ‘ইসরায়েল ডে প্যারেড’কে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল রাষ্ট্র ও স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে দেখা হয়।
মামদানির এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে শহরের দুটি প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠন সম্প্রতি গ্রেসি ম্যানশনে আয়োজিত একটি ইহুদি ঐতিহ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক এডামস প্রশাসনের ইহুদিবিদ্বেষ-বিরোধী দফতরের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মোশে ডেভিস বলেন, ১৯৬৪ সালে এ প্যারেড চালুর পর থেকে নিউইয়র্ক সিটির প্রত্যেক মেয়র এতে অংশ নিয়েছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে নিউইয়র্কের গভীর সম্পর্ক নিয়ে শহরটি সবসময় গর্ব করে এসেছে। ফলে এ প্যারেডে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত শহরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের প্রতি এক ধরনের অসম্মান।
চলতি মাসের শুরুতেই জোহরান মামদানি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন যে, আগামী ৩১ মে অনুষ্ঠিতব্য এ সংহতি সমাবেশে তিনি অংশ নেবেন না। এমন এক সময়ে তিনি এ ঘোষণা দিলেন, যখন নিউইয়র্কের বিভিন্ন সিনাগগ ও ইহুদি কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের বাইরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং অ্যান্টিসেমিটিজম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই তিনি এ প্যারেডে অংশ নেবেন না— এমন ইঙ্গিত এর আগেই দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘জিউইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। সম্প্রতি বিষয়টি আবারও প্রকাশ্যে নিশ্চিত করার পর সমালোচনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ফক্স নিউজ ডিজিটাল মামদানির কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মুখপাত্র আগের সে সাক্ষাৎকারের বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করেন।
এদিকে আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, মামদানির এ সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও সাধারণ মানুষের আগ্রহ উল্টো বেড়েছে। তাদের দাবি, এবারের প্যারেডে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























