Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০৮, ১ জানুয়ারি ২০২৬

নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

পবিত্র কোরআন হাতে মেয়রের শপথ নিলেন মামদানি

পবিত্র কোরআন হাতে মেয়রের শপথ নিলেন মামদানি
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নগরী নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। পবিত্র কোরআন হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন জোহরান মামদানি। 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে ব্যতিক্রমী এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি এ শপথের মধ্য দিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। একই সঙ্গে তিনি শহরটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী মেয়রদের একজন। শপথ গ্রহণের সময় তিনি পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রেখে দাফতরিক অঙ্গীকার করেন। নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় এ শহরের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঘটনাটি এক অনন্য নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শপথ গ্রহণের স্থান হিসেবে মামদানি বেছে নেন ১৯৪৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে স্টেশন। এর নান্দনিক স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিউ ইয়র্কবাসীর কাছে সুপরিচিত। মামদানির ট্রানজিশন টিম জানিয়েছে, এ স্টেশনটি শহরের সে শ্রমজীবী মানুষদের প্রতীক, যারা প্রতিদিন নিউ ইয়র্ককে সচল রাখেন। প্রতীকী অর্থেই তিনি এখানেই শপথ নিতে আগ্রহী হন।

মধ্যরাতের এ সীমিত পরিসরের অনুষ্ঠানের পর দিনভর রয়েছে আরও আনুষ্ঠানিকতা। দুপুর ১টায় সিটি হলের সিঁড়িতে একটি বৃহৎ জনসমাবেশে পুনরায় শপথ নেবেন মামদানি। সেখানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন তার রাজনৈতিক আদর্শিক অনুপ্রেরণা, মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। পরে ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোস’-এ আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা ও ব্লক পার্টি।

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় জন্ম নেয়া জোহরান মামদানি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত এক পরিবারের সন্তান। তার মা বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং বাবা প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও চিন্তাবিদ মাহমুদ মামদানি। ১৯৯৯ সালে, মাত্র সাত বছর বয়সে, তার পরিবার নিউ ইয়র্কে স্থায়ী হয়। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর ২০১৮ সালে তিনি দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন।

নিজেকে একজন ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেয়া মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে প্রধান ইস্যুতে পরিণত করেছিলেন। তার ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিনা মূল্যে বাস পরিষেবা চালু, প্রায় ১০ লাখ ভাড়াটিয়া পরিবারের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখা, সবার জন্য চাইল্ডকেয়ার নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষামূলকভাবে নগর-পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালু করা।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মামদানির সামনে যেমন বিপুল জনসমর্থন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কঠিন প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এ শহরে আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, তীব্র তুষারপাত মোকাবিলা, এবং সাবওয়ের দীর্ঘসূত্রতা ও অব্যবস্থাপনা দূর করা তার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

তার প্রগতিশীল নীতিগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা শুধু নিউ ইয়র্কবাসী নয়, গোটা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, শহরের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে তিনি কতটা সমন্বয়ের পথে হাঁটতে পারেন, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সূত্র: আল জাজিরা

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ