হাসনাতের সফর ঘিরে যুবদলের মব
‘আমি তো বিএনপির মেয়র ছিলাম’, বললেন মনজুর আলম
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলম বলেছেন, তাকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে আখ্যা দেয়ার কোনও ভিত্তি নেই। তিনি দাবি করেছেন, তিনি কখনও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না; বরং বিএনপির সমর্থন নিয়েই মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সম্প্রতি এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ চট্টগ্রামে সফরকালে মনজুর আলমের বাসায় গেলে সেখানে একদল যুবক জড়ো হয়ে নিজেদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। তাদের কয়েকজন মনজুর আলমকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলেও অভিযোগ করেন। এ ঘটনার পর বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলেন সাবেক এ মেয়র।
মনজুর আলম বলেন,
আমার নামে তো কোনও মামলাই নেই। আমি আওয়ামী লীগও করি না। আওয়ামী লীগের দোসর আমি কীভাবে হলাম? আমি তো বিএনপির মেয়র ছিলাম। আমি কি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলাম নাকি? আওয়ামী লীগের তো আমি কিছুই ছিলাম না।
তিনি জানান, হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ছিল সৌজন্যমূলক। চট্টগ্রামে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসে হাসনাত দুপুরে তাকে ফোন করেন এবং তার বাসায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি তাকে দুপুরের খাবারের আমন্ত্রণ জানান।
মনজুর আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টার দিকে হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বাসায় পৌঁছান এবং সেখানে খাবারও খান। কিছুক্ষণ পর বাসার সামনে স্থানীয় কিছু যুবক জড়ো হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজেই বাইরে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
এনসিপি থেকে তাকে মেয়র পদে প্রার্থী করা হতে পারে—এমন গুঞ্জন নিয়েও কথা বলেন মনজুর আলম। তিনি বলেন, এ নিয়ে নানা কানাঘুষা থাকলেও তিনি নিজে কাউকে নির্বাচন করার কথা বলেননি। এমনকি হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গেও এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি আরও বলেন,
তার বাসার সামনে যারা জড়ো হয়েছিলো, তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং আশপাশ এলাকার বাসিন্দা।
মনজুর আলম জানান, ২০১৫ সালের নির্বাচনের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন মনজুর আলম। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
সবার দেশ/কেএম




























