মওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর ইরফানুল বারী আর নেই
মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর ও সহযোদ্ধা, বিশিষ্ট গবেষক, লেখক এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী স্টাডিজ কোর্সের শিক্ষক সৈয়দ ইরফানুল বারী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তিনি নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শুক্রবার হঠাৎ করে তার অবস্থার অবনতি হলে বাসভবনেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিলো প্রায় ৮১ বছর। তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সৈয়দ ইরফানুল বারীর জন্ম ১৯৪৫ সালের ১ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলায়। ষাটের দশকের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে ১৯৬৭ সালে মওলানা ভাসানীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি পুরোপুরি জনগণের রাজনীতি ও মানুষের কল্যাণের সংগ্রামে নিজেকে নিবেদন করেন।
১৯৬৯ সাল থেকে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর ও সহযোদ্ধায় পরিণত হন। ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন, ত্যাগ ও মানবিক চিন্তাধারাকে তিনি আজীবন নিজের জীবনের মূল আদর্শ হিসেবে ধারণ করেন।
ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, দেশ ও বিদেশে ভ্রমণ এবং বিভিন্ন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনও সন্তোষ আশ্রমের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। মেহনতি মানুষের অধিকার, শোষণবিরোধী রাজনীতি ও মানবিক সমাজ গঠনের চিন্তাই ছিলো তার জীবনচর্চার মূল ভিত্তি।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাওলানা ভাসানী স্টাডিজ কোর্স চালু হওয়ার পর থেকেই শিক্ষক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেন মওলানা ভাসানীর সংগ্রামী জীবন, রাজনৈতিক আন্দোলন এবং দিকনির্দেশনামূলক দর্শন। তার গবেষণা ও লেখালেখির মাধ্যমে ভাসানী চিন্তাধারার একাডেমিক চর্চা নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করেন সহকর্মীরা।
সৈয়দ ইরফানুল বারীর মৃত্যুতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার মৃত্যু ভাসানী গবেষণা ও রাজনৈতিক চিন্তাচর্চার ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন, গবেষণা ও লেখালেখি আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
সবার দেশ/কেএম




























