৭টি সমঝোতা স্মারক সই হবে টোকিওতে
জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা
নানামুখী রাজনৈতিক চাপ এবং পদত্যাগের সম্ভাবনার গুঞ্জনের মধ্যেও জাপান সফরে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সফর ঘিরে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও সোমবার (২৬ মে) দুপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে—সফরটি নির্ধারিত সূচিতেই হচ্ছে। বিকেলেই জাপান সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, যাতে সফরের বিষয়ে সকল সংশয় কেটে যায়।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৮ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি সফরে টোকিও যাচ্ছেন ড. ইউনূস। তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। পাশাপাশি, তিনি অংশ নেবেন নিক্কেই ফোরামের ৩০তম বার্ষিক ‘এশিয়ার ভবিষ্যৎ’ সম্মেলনে।
সাতটি সমঝোতা সই হবে সফরে
ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সদ্য ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী জানান, প্রধান উপদেষ্টার সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হবে।
সমঝোতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- জেবিআইসি'র মাধ্যমে প্রি-পেইড গ্যাস মিটার প্রকল্পে অর্থায়নের চুক্তি
- ওনডা ও নাকসিস-এর সঙ্গে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি ইজারা সংক্রান্ত সমঝোতা
- জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ব্যাটারি ও সাইকেল কারখানা স্থাপন
- বিডাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ (OSS) প্রযুক্তি বাস্তবায়নে জাইকার সহযোগিতা
- বিএমইটির সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণ বিষয়ে দুইটি পৃথক সমঝোতা
এছাড়া, বাংলাদেশ সফরে টোকিওর কাছে ১০০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা চাওয়া হবে বলেও জানান সচিব।
রেল ও অবকাঠামো খাতে বড় ঘোষণা আসতে পারে
সফরে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথ ডুয়াল গেজ ডাবল লাইনে উন্নীত করার বিষয়ে ‘এক্সচেঞ্জ অফ নোট’ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সামরিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা চুক্তি
২০২৩ সালে চালু হওয়া জাপানের নতুন ‘অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (OSA)’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ সামরিক সহযোগিতা পাওয়ার যোগ্য দেশগুলোর একটি। সফরকালে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি রফতানির বিষয়েও আলোচনা হবে।
আইপিএস ও বিগ-বি নিয়ে টোকিওর আগ্রহ
জাপান ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল (IPS) এবং বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (BIG-B) নিয়ে বাংলাদেশের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চায়। ঢাকা ইতোমধ্যেই এক ‘আউটলুক’ প্রকাশ করেছে যাতে সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিয়ে অর্থনৈতিক ও অবাধ যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
জাপান চায়, IPS ও BIG-B-এর মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তর দিয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি শিল্প-অর্থনৈতিক বলয় গড়ে উঠুক।
সফরের গুরুত্ব
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে থাকলেও এ সফর প্রধান উপদেষ্টার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা। একদিকে আন্তর্জাতিক মিত্রতা জোরদার, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সহায়তা ও বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সফর সফল হলে তা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে বড় মাইলফলক হয়ে উঠবে।
সবার দেশ/কেএম




























