Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫৭, ২৮ জুন ২০২৫

বেশিরভাগ মামলার আসামি, তদন্তেও ধীরগতি

কাজে ফেরেননি ১৮৭ পুলিশ

কাজে ফেরেননি ১৮৭ পুলিশ
প্রতীকি ছবি

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের প্রায় ১১ মাস পার হলেও এখনও কাজে ফেরেননি ১৮৭ পুলিশ সদস্য। তাদের অধিকাংশই কোনও না কোনও মামলার আসামি। কেউ জামিন নিয়ে ফেরেননি, কেউবা ছুটি নিয়ে দেশ ছেড়েছেন। অথচ এসব মামলার তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ উঠছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তদন্তে ইচ্ছাকৃত ধীরগতি এবং প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতাই এর মূল কারণ।

পলাতক থেকেও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা

তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ পুলিশ সদস্যদের অনেকেই ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ একাডেমি সারদার পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও লজিস্টিক) তারেক বিন রশীদ ও তার স্ত্রী রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার হুমায়রা পারভীন গত তিন মাস ধরে কাজে অনুপস্থিত। জানা গেছে, তারা ইতোমধ্যে দেশ ত্যাগ করেছেন। একইভাবে ২৪ ব্যাচের অতিরিক্ত ডিআইজি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও সুনন্দা রায় দম্পতিও পালিয়ে গেছেন।

সাবেক প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

পলাতক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন বিতর্কিত একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যরাও। বিশেষ শাখার সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, অপরাধ তদন্ত বিভাগের সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরিচ্যুতির আগে আত্মগোপনে চলে যান।

অভিযোগ আছে, পলাতক থাকা অবস্থায় এদের অনেকেই দেশের বাইরে বসে পুলিশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

১৮৭ জনের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের ১৬ জন

পুলিশ সদর দফতরের তথ্যমতে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত ১৮৭ সদস্যের মধ্যে ১৬ জনই ডিআইজি থেকে এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। এছাড়া, পাঁচজন পরিদর্শক, ১৪ জন এসআই, নয়জন এএসআই, সাতজন নায়েক ও ১৩৬ জন কনস্টেবল রয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ অনেকে তালিকায় রয়েছেন।

মামলার তদন্তে স্থবিরতা

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭৬১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশের সাবেক দুই আইজিপিসহ প্রায় ১১৬৮ জন সদস্যের নাম রয়েছে। অথচ তদন্তে কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ১১ মাসে চার্জশিট তো দূরের কথা, মাত্র ৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অধিকাংশ মামলাই তদন্তের নামে পড়ে আছে দীর্ঘসূত্রতায়।

দায়মুক্তির সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও আইন সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এ দায়মুক্তি প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর আস্থাহীনতা তৈরি করছে। তারা বলেন, এ প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, প্রশাসনের ভেতরের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

পুলিশ সদর দফতরের বক্তব্য

সহকারী মহাপরিদর্শক ইনামুল হক জানিয়েছেন, অনুপস্থিতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং প্রচলিত আইনের আওতায় তদন্ত চলছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, প্রশাসনিকভাবে এ তদন্ত ও পদক্ষেপ কার্যত থমকে আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত এ মামলাগুলোর বিচার ও তদন্ত শেষ না হয়, তাহলে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দুর্বল হবে এবং পুলিশের ভেতরে শৃঙ্খলার সঙ্কট আরও গভীর হতে পারে।

সবার দেশ/এফএস

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন