অন্তর্বর্তী সরকারের কূটনৈতিক সমন্বয়
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সুইজারল্যান্ডে দূত রদবদল
তিনটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মিশনে রাষ্ট্রদূত রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে এ রদবদল ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলামকে এবার পাঠানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। জেনেভা মিশনে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন কানাডায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান। অন্যদিকে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিনকে কানাডার হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।
এগ্রিমো পত্র প্রায় সম্পন্ন
যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ড ইতোমধ্যে এ রদবদলে সম্মতি দিয়ে এগ্রিমো (রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও সম্মতিপত্র) পাঠিয়েছে। কানাডা থেকেও জসীম উদ্দিনের জন্য এগ্রিমো দ্রুত চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রদবদলের পেছনের প্রেক্ষাপট
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক জটিলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার কৌশলের অংশ হিসেবে এ রদবদলকে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত মে মাসে জসীম উদ্দিনকে পররাষ্ট্র সচিবের পদ থেকে সরিয়ে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়ামকে নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। সে সময় জসীম উদ্দিনকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর আলোচনা থাকলেও শেষপর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাকে কানাডায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
বিশ্লেষকদের অভিমত
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সুইজারল্যান্ড—তিনটি দেশই মানবাধিকার, নির্বাচন, অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ইস্যুতে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ মিশনগুলোতে দূত রদবদল শুধুই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং তা কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের অংশ।
সামনে কী আসছে?
দূত রদবদলের এ ধারা সামনের দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলমান আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক সংলাপকে সামনে রেখে কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বে আরও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























