আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার চাইলেন মা
ফেলানী হত্যার ১৪ বছর আজ
আজ ৭ জানুয়ারি, কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার ১৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বাবার সাথে কাটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হন ফেলানী। হত্যার পর ফেলানীর লাশ সীমান্তের কাটাতারে ঝুলিয়ে রাখাহয়। এ হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত নির্মম এবং দেশ-বিদেশে আলোচিত।
ঘটনার দুই বছর পর ২০১৩ সালে ভারতের কোচবিহারে বিএসএফ আদালতে বিচার শুরু হলেও, ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়া হয়। পরবর্তীতে পুনরায় বিচার দাবি করা হলেও, দ্বিতীয় দফায়ও তাকে খালাস দেয়া হয়। এরপর, ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ ফেলানীর বাবার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন করে, কিন্তু বারবার শুনানির তারিখ পিছিয়ে গেছে। ২০১৮ সালে নতুন দিন ধার্য হলেও, তা আর হয়নি।

ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম এবং মা জাহানারা বেগম অভিযোগ করেছেন যে, বিচার না পাওয়ার কারণে তাদের পরিবার মানসিকভাবে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত। ফেলানীর মা বলেন, আগের সরকার বিচার করতে পারত, কিন্তু তারা কিছু করেনি। নতুন সরকারের কাছে আবেদন, যাতে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার হয়।
আইনজীবীরা মনে করেন, ফেলানী হত্যার বিচার দ্রুত হওয়া উচিত, কারণ এটি শুধু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ভবিষ্যতে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। তাদের মতে, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে চলমান রিটটি নিষ্পত্তি হলে, তা সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
কুড়িগ্রামের স্থানীয়রা এবং আইনজীবীরা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন, যাতে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয় এবং ফেলানীর পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়া যায়।
সবার দেশ/এওয়াই




























