আসন্ন নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ: ড. ইউনূস
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনই ঠিক করে দেবে বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা–২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তরুণরা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের একটি অংশ জয়লাভ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি মনে করেন, এ তরুণ নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিতে নতুন চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসবে।
উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এখনও মূলত চাকরি পাওয়ার লক্ষ্যেই সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষ হয় চাকরির খোঁজ দিয়ে। অথচ কেন আমরা তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারছি না—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানমুখী না করে উদ্ভাবন, উদ্যোগ ও স্বনির্ভরতার দিকে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন ড. ইউনূস।
সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে উচ্চশিক্ষা ও উন্নয়ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জানায়, যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন।
ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এ আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে কার্যকর দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সবার দেশ/কেএম




























