ভোটের দিন নৌযান চলাচলে ইসির নিষেধাজ্ঞা, জরুরি সেবা ও দূরপাল্লা আওতামুক্ত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণের দিন এবং তার আগে-পরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহণের আগের দিন রাত ১২টা অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত থেকে ভোটের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ এবং ইঞ্জিন বোট চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। তবে নির্দিষ্ট রুটে নিয়মিত চলাচলকারী নৌযান এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।
এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট এবং পরিচয়পত্রধারী দেশি ও বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের নৌযান ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
একইসঙ্গে, নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত পরিচয়পত্রধারী দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা যেমন—অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতে ব্যবহৃত নৌযান চলাচলেও কোনো বাধা থাকবে না।
এছাড়া প্রধান প্রধান নৌপথে বন্দর কার্যক্রম, জরুরি পণ্য পরিবহন এবং অন্যান্য বিশেষ প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যেসব এলাকায় ভোটার ও সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম নৌযান, সেসব ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। একইভাবে দূরপাল্লার নৌযান চলাচলও নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষ্যে স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজন বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে পরিস্থিতি অনুযায়ী নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন ভোটের দিন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, অন্যদিকে জরুরি সেবা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় চলাচল ব্যাহত হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/এফও


























