নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে আদালতের কড়া অবস্থান
সিইসির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল
আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আদালত জানতে চেয়েছেন, কেনো তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। শুনানি শেষে তিনি জানান, গত বছরের ২৭ আগস্ট একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সংক্রান্ত আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে আদালতের সে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, আদালতের আদেশ দীর্ঘ সময়েও বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছে। তার মতে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো আদালতের আদেশ যথাযথভাবে পালন করা।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, ‘কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদন করেছিলেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। কিন্তু ওই আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না করায় তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটের শুনানি শেষে আদালত গত ২৭ আগস্ট আবেদনটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
এরপরও নির্বাচন কমিশন সে নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় বিষয়টি নতুন করে আইনি জটিলতায় রূপ নেয়। হাইকোর্টের জারি করা এ রুলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালত অবমাননার এ রুল নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ মানা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম শর্ত।
সবার দেশ/কেএম



























