পুনর্বিবেচনায় পরীক্ষা পদ্ধতি
স্কুলে ভর্তিতে লটারি বহাল রাখার ভাবনা
সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেয়ার পূর্বঘোষণা থেকে সরে এসে আবারও লটারি পদ্ধতি বহাল রাখার বিষয়ে ভাবছে সরকার। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানো এবং ভর্তিকেন্দ্রিক কোচিং বাণিজ্য বিস্তারের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনা চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত শিশুদের ওপর অতিরিক্ত প্রতিযোগিতামূলক চাপ সৃষ্টি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। চলতি মাসের মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও জানান, ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি ব্যবস্থা বহাল রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, লটারি বহাল রাখা যায় কি না, অথবা কোন কোন শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতি চালু রাখা হবে—এসব বিষয়ে ভর্তি কমিটিকে আলোচনা করে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করছি।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হবে।
সেসময় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন,
বছরের শুরুতে যে ভর্তি কার্যক্রম হয়, সেখানে আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আগাম জানিয়ে দিচ্ছি, যাতে সবাই প্রস্তুতির সুযোগ পায়। আমরা লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার করছি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় নেয়ায় সে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে প্রথমবারের মতো ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। পরের বছর, অর্থাৎ ২০১২ সালে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু করা হয়। সে সময় দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হলেও, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে করোনা মহামারির কারণে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে একই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে ভর্তি প্রক্রিয়া, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রস্তুতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে। তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের।
সবার দেশ/কেএম




























