Sobar Desh | সবার দেশ মোঃ হাবিবুর রহমান


প্রকাশিত: ১৬:৩১, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ

সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ
ছবি: সবার দেশ

বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা এ তিনটি প্রশ্ন এখন আর আলাদা নয়; একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ভেতরে বিভক্ত রাষ্ট্র বাইরে সম্মান পায় না এ বাস্তবতা বারবার আমাদের সামনে হাজির হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতিকে একটি ঐক্যবদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলো। এ গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়কদের অবদান অনস্বীকার্য এবং ইতিহাসে তা অমলিন থাকবে। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য প্রতিপক্ষের বিরোধিতা করতে গিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষা ও দমনমূলক আচরণকে প্রশ্রয় দেয়া, এমনকি তা যদি গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারীদের পক্ষ থেকেও হয়, তবে সেটিও একপ্রকার ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রকাশ। গণতন্ত্রে অবদান কখনও ভিন্নমত দমনের স্থায়ী লাইসেন্স হতে পারে না।

দুঃখজনকভাবে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আবারও শুরু হয়েছে ট্যাগিং রাজনীতি। কে দেশপ্রেমিক, কে দেশদ্রোহী; কে গ্রহণযোগ্য, কে অগ্রহণযোগ্য, কে স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি, কে পক্ষ শক্তি ইত্যাদি। এ বিভাজনের রাজনীতি অতীতেও রাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।

এ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের সামনে প্রয়োজন একটি নতুন রাষ্ট্রচিন্তা যেখানে অতীত থেকে শিক্ষা নেয়া হবে, কিন্তু অতীতে আটকে থাকা হবে না। রাজনীতি হবে নীতিনির্ভর, প্রতিযোগিতা হবে কর্মের ভিত্তিতে, আর ভিন্নমত হবে শক্তি কিন্তু শত্রুতা নয়। সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে চাই সর্বদলীয় ঐক্য, আর রাষ্ট্র পরিচালনায় চাই জবাবদিহি ও আইনের শাসন।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থানও ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিএনপি যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে, তা ইতোমধ্যেই পরিষ্কার করেছেন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে। বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে এটি একটি দায়িত্বশীল অবস্থান এবং জাতীয় ঐকমত্যের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এ বার্তা দলের তৃণমুল পর্যায়ে চর্চা হয় কিনা সেটা দেখভালের দায়িত্বও দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের। গণতন্ত্রে মতভিন্নতা থাকবে কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক প্রশ্নে দায়িত্বশীল আচরণই পরিণত রাজনীতির পরিচয়।

আরও পড়ুন <<>> তারেক রহমান ও দক্ষিণ এশিয়ার নতুন মেরুকরণ

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এক ধরনের অলিখিত অভিভাবকত্বের জায়গায় রয়েছে। তাই দেশবাসীর প্রত্যাশা যে, দলটি সহনশীলতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নেতৃত্ব দেবে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সে ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিরও উচিত অপপ্রচার ও আক্রমণাত্মক ভাষা পরিহার করে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

নতুন স্বপ্নের বাংলাদেশ মানে ভয় নয়, ভরসা; প্রতিশোধ নয়, ন্যায়; বিভাজন নয়, সংহতি। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন দায়িত্বশীল রাজনীতি, দৃঢ় রাষ্ট্র ও সচেতন নাগরিক। তবেই বাংলাদেশ সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে একটি সত্যিকারের স্বাধীন ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র হিসেবে। 

লেখক: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

শীর্ষ সংবাদ:

আজ হজ ফ্লাইট শুরু, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
জায়মার হাতে খালেদা জিয়ার স্বাধীনতা পুরস্কার
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমতি
অনুমতি ছাড়া হজের চেষ্টায় গুনতে হবে জরিমানা
সংসদে জামায়াত সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে: স্পিকার হাফিজ
মুজিবনগর দিবস আজ
১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের
লেবানন-ইসরায়েল ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের
এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন জুলাই আন্দোলনের নেতারা
খালেদা-তারেক গ্রেফতারে চাপ ছিলো দুই সম্পাদকের
ফ্রান্সে অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের আভাস
হরমুজে মার্কিনী ‘পুলিশি’ জাহাজকে ডুবিয়ে দিবে ইরান
হরমুজে জাহাজ চলাচলে সুখবর দিলো ইরান
জ্বালানি সংকটে স্থগিত বার কাউন্সিল নির্বাচন
রাজনীতি নয়, ধর্মীয় বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকুন: পোপকে ভ্যান্স