ব্যাংক ডাকাতদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি হাসনাত আব্দুল্লাহর
‘ঋণখেলাপিদের জন্য প্রতি ইঞ্চি মাটি জাহান্নাম বানিয়ে দেবো’
ঋণখেলাপি ও ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে চরম অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আগামী বাংলাদেশ কখনোই ঋণখেলাপি কিংবা ব্যাংক ডাকাতদের হাতে তুলে দেয়া হবে না। ব্যাংক লুটেরা ও ঋণখেলাপিদের জন্য এ দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে জাহান্নাম বানিয়ে দেয়া হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল পাবলিক মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের মনোনীত প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অতীতে সংসদে গিয়ে অনেকেই চুরি-দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। সংসদ সদস্য হওয়ার পর কেউ কেউ টেন্ডারবাজ হয়েছে, লাইসেন্স নিজের নামে নিয়ে লুটপাট চালিয়েছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, একটি দল সংসদে যাওয়ার আগেই ৪৫ জন ‘চোর’কে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে, যারা আগেই ডাকাত হয়ে গেছে। এমনকি নির্বাচন কমিশন ‘মনে কষ্ট নিয়ে’ তাদের নির্বাচনে যেতে দেয়ার কথা বলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন এনসিপির এ নেতা। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে চোর-ডাকাতদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়নি। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেয়ার কোনও অধিকার কমিশনের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বারবার তরুণদের ব্যবহার করে শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় গেছে। তরুণদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ক্ষমতা ও সে রক্তমাখা গদি শাসকদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু আগামী বাংলাদেশে আর সে সুযোগ দেয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গিয়ে যারা দেশ ও জনগণের সম্পদ লুটপাট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নতুন বাংলাদেশে দুর্নীতি, ঋণখেলাপি ও ব্যাংক কেলেঙ্কারির কোনও স্থান থাকবে না—এ অঙ্গীকার নিয়েই তারা নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন বলেও জানান তিনি।
সবার দেশ/কেএম




























