Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৪৪, ২ জুলাই ২০২৬

রিজার্ভ চুরি ও ব্যাংক কেলেঙ্কারি তদন্তে তৎপর

তিন সাবেক গভর্নরের নথি তলব দুদকের

তিন সাবেক গভর্নরের নথি তলব দুদকের
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বহুল আলোচিত ঘটনার অভিযোগ আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন সাবেক গভর্নরের দায়িত্বকালীন কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগত নথিপত্র তলব করেছে সংস্থাটি।

নথি চাওয়া তিন সাবেক গভর্নর হলেন ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আবদুর রউফ তালুকদার।

বুধবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রিজার্ভ চুরির অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের কাছে প্রয়োজনীয় নথি চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি এবং ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিও চাওয়া হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্ত, ঋণ অনুমোদন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং রিজার্ভ চুরির ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের নথি সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া রিজার্ভ চুরির সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রযুক্তিগত দায়িত্বে থাকা দুই ভারতীয় নাগরিকের নিয়োগ, দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নথিও জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দুদক আরও জানিয়েছে, নতুন কয়েকটি ব্যাংকের অনুমোদনের নোটশিটের সত্যায়িত অনুলিপি, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলোকে দেয়া নগদ সহায়তার অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের নথিও তদন্তের জন্য প্রয়োজন।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর দোহাকে ঘিরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছিলো, তার সত্যায়িত কপিও দুদকের কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, দুদকের হাতে এমন তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, যেখানে একক গ্রাহকের ঋণসীমা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলোকে টাকা ছাপিয়ে নগদ সহায়তা প্রদান, বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার নামে বেআইনি ঋণ সুবিধা দেয়া এবং আরও নানা ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই বিস্তৃত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগগুলোর তদন্তে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম, উপপরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার এবং উপসহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল কাজ করছে।

দুদকের এ অনুসন্ধানকে দেশের ব্যাংকিং খাতে অতীতের আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অনিয়মের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সবার দেশ/কেএম

জনপ্রিয়