ভুয়া নথি তৈরি, ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে বরখাস্ত দুদক কর্মকর্তা মামুন
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আরও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা হলেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গত ৫ অক্টোবর দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। এ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মনগড়া নথি তৈরি, ভুয়া নোটশিট প্রস্তুত ও তা কমিশন সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রেরণ করতো। এসব নথি ব্যবহার করে উচ্চবিত্ত ও ব্যবসায়ী শ্রেণির ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল করে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
গত এক বছরে শতাধিক মানুষকে ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আদায়ের পাশাপাশি লন্ডনে আত্মীয়ের নামে বাড়ি ক্রয়, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থপাচার, বসুন্ধরা এলাকায় দুটি প্লট ও পূর্বাচলে ১০ কাঠা জমি আত্মীয়ের নামে আত্মসাৎ করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এছাড়া রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে বিনিয়োগ, কমিশনে দায়ের হওয়া নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গায়েব করে ফেলা, এবং অভিযোগকারী এক ব্যবসায়ীকে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুদকের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমন কমিটির ০৫/২০২৫ নং সভায় এসব অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। সভায় বিষয়গুলো আমলে নিয়ে মামুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অভিযোগের গুরুত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় কমিশন দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ২০০৬ অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দুদক কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০০৮-এর ৪৩(১) বিধি অনুসারে চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, মামুনের বিরুদ্ধে আরও আর্থিক লেনদেন, সম্পদ গোপন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ যাচাইয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও নিচ্ছে কমিশন।
সবার দেশ/কেএম




























