Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ৮ অক্টোবর ২০২৫

আপডেট: ১৮:৫৬, ৮ অক্টোবর ২০২৫

সস্ত্রীক দুদকের জালে ধরা দিলেন বিতর্কিত ডায়মন্ড দিলীপ 

সস্ত্রীক দুদকের জালে ধরা দিলেন বিতর্কিত ডায়মন্ড দিলীপ 
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও প্রভাবশালী যোগাযোগের পর অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে ধরা পড়লেন বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। 

তার বিরুদ্ধে এবং তার স্ত্রী সবিতা আগরওয়ালার বিরুদ্ধেও পৃথক দুটি দুর্নীতির মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুদক। একইসঙ্গে বাজুসের সাবেক সভাপতি এনামুল হক খান ও তার স্ত্রী শারমিন খানের বিরুদ্ধেও পৃথক দুটি মামলা করেছে কমিশন।

বুধবার (৮ অক্টোবর) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম কমিশনের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দিলীপ আগরওয়ালা দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং ডায়মন্ড ব্যবসায় বিপুল সম্পদের মালিক হন। তার বিরুদ্ধে তিন দফা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করলেও প্রতিবারই তিনি প্রভাব খাটিয়ে দায় এড়িয়ে যান। তবে ‘জুলাই বিপ্লব’-এর পর গুলশান থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর দুদক তার বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু করে।

সর্বশেষ অনুসন্ধানে দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় কমিশন এবার তার ও পরিবারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়।

দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, দিলীপ আগরওয়ালা জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন করেছেন।

তার স্ত্রী সবিতা আগরওয়ালার বিরুদ্ধেও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ৪৫ কোটি ৭০ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ৮টি ব্যাংক হিসাবে ২১৩ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯২৭ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।

অন্যদিকে, বাজুসের সাবেক সভাপতি এনামুল হক খান ২ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৬৫১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ১২টি ব্যাংক হিসাবে ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৪২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এনামুলের স্ত্রী শারমিন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯৬৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার ১৬৮ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।

উল্লেখ্য, ডায়মন্ড অ্যান্ড ডাইভার্স ও শারমিন জুয়েলার্সের মালিক এনামুল হক খান ২০২৩ সালে বাজুস থেকে বহিষ্কৃত হন।

দুদক জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের এই মামলাগুলোকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত আর্থিক অপরাধ মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে স্বর্ণ ও হীরার ব্যবসার আড়ালে অর্থপাচার ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক সম্পদ বাণিজ্যের বিশাল চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন