পাঁচ কোটি টাকার ‘অবৈধ’ সম্পদ, সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বর্তমান সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) ও কাস্টমস বিভাগের সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলাল হোসাইন চৌধুরী তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৮ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ১৬৬ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তে তার নামে মোট ১৩ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭৯ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ তিনি ৪ কোটি ৬০ লাখ ১৯ হাজার ৭১৩ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দায়দেনা বাদে তার নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ কোটি ৫২ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৩ টাকা। পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদ ১৬ কোটি ৫০ লাখ ৯ হাজার ৪২৬ টাকা হলেও বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে মাত্র ১১ কোটি ৫২ লাখ ৫৮ হাজার ৩০ টাকা।
ফলে বেলাল চৌধুরী জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংস্থাটির দাবি, তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বেলাল চৌধুরী বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার এবং শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যার্পণ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এসব দুর্নীতির কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে তার বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, বেলাল চৌধুরীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমি কেনাবেচা, পারিবারিক ব্যবসা এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে সম্পদ স্থানান্তর বিষয়েও তদন্ত চলছে। তাদের ধারণা, তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, যা পরবর্তী অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসবে।
দুদক বলছে, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই মামলাটি করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সবার দেশ/কেএম




























