সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের রক্তক্ষয়ী সংঘাত তীব্রতর
সুদানের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে সরকারি সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) একে অপরের অবস্থানে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। গত সোমবার দেশটির দারফুর ও কর্দোফান অঞ্চলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপি সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে যে, আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকা দারফুর প্রদেশের জালিংগেই শহরে সেনাবাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে আরএসএফের একটি গুদাম ধ্বংস হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে কর্দোফান অঞ্চলের ডিলিং শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আরএসএফ। সম্প্রতি সেনাবাহিনী এ শহরে আধাসামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের অবরোধ ভেঙে দেওয়ার পর পাল্টা হিসেবে এ হামলা চালানো হয়। ড্রোনটি সরকারি একটি মানবিক সহায়তা সংস্থার কার্যালয়ে আঘাত হেনেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ডিলিং শহরটি যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সম্মুখভাগ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনী বর্তমানে দক্ষিণ কর্দোফানের রাজধানী কাদুগলির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, সংঘাতের কারণে কাদুগলি শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব জ্যান এগেল্যান্ড দক্ষিণ কর্দোফানের পরিস্থিতিকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও অবহেলিত এলাকা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, সেখানে দুর্ভিক্ষ ও চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সুদানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সুদানের এ গৃহযুদ্ধে আরএসএফের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে অ-আরব জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনায়। এ ছাড়া দেশটিতে ক্রমবর্ধমান খাদ্য সংকটের কারণে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় কলেরার মতো সংক্রামক ব্যাধি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সবার দেশ/এফএস




























