মুরাদনগরে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ধর্ম-রাজনীতির ভয়ংকর খেলা
কুমিল্লার মুরাদনগরের পাঁচকিত্তা গ্রামের নারী নির্যাতনের ঘটনা এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে। ২৬ জুন রাতে প্রবাসীর স্ত্রীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষণের অভিযোগ, এরপর নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর ও ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই এটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু কার্ড’ ও রাজনৈতিক অপপ্রচার, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযুক্ত ফজর আলীর মধ্যে দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন ছিলো। ভুক্তভোগীর ভাইয়ের দাবি, ফজরের ভাই শাহ পরানের সঙ্গে তাদের পূর্ব পরিচয় এবং আর্থিক দেনা-পাওনার জেরে ঘটনার সূত্রপাত। তবে এলাকা জুড়ে গুঞ্জন রয়েছে, ভুক্তভোগী নারী ও ফজর আলীর মধ্যে সম্পর্ক ছিলো, যা পরিবার অস্বীকার করেছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে ফজর আলী ৫০ হাজার টাকা পাওনা আদায়ে তাদের বাড়িতে এসে দরজা ভেঙে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় আশপাশের লোকজন এসে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর করে এবং ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুরো ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা সুমন। তিনি রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুমনের নেতৃত্বে একদল যুবক দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্মে জড়িয়ে আছে। ঘটনার দিনও তারাই ঘরে ঢুকে নারী ও ফজর আলীকে মারধর করে এবং পরিকল্পিতভাবে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় পুলিশ ধর্ষণের অভিযোগে ফজর আলী এবং নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে ছাত্রলীগ নেতা সুমনসহ আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, ঘটনার পেছনের কারণ ও জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
এদিকে, নারী নির্যাতনের ঘটনাকে ঘিরে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ইস্যু উসকে দিয়ে মুরাদনগরে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কুমিল্লা শহরে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করে। বক্তারা দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।
অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপি বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। দলটির নেতারা কুমিল্লায় সংবাদ সম্মেলন করে এ অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
সবমিলিয়ে, পাঁচকিত্তা গ্রামের একটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে যেভাবে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা চলছে, তা শুধু তদন্তকে জটিল করছে না, বরং পুরো এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোনো গুজব বা উস্কানিতে কান না দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
সবার দেশ/কেএম




























