Sobar Desh | সবার দেশ সামিউর সাগর


প্রকাশিত: ০০:২১, ১০ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ০০:২৩, ১০ আগস্ট ২০২৫

ডেসকোর ঘাড়ে হাসিনা ভূত

ডেসকোর ঘাড়ে হাসিনা ভূত
ছবি: সবার দেশ

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকার পতনের পর কেটে গেছে এক বছরের বেশি সময়। ক্ষমতা হারিয়ে দেশের মাটিও ছাড়তে হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে। জনতার রোষে বিদ্ধ হয়ে পালিয়েছেন ভারতে, নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক আশ্রয়ে। অথচ তার রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক লেজুড়বৃত্তির শেষ হয়নি এখনও। 

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের অবসানের পরও সরকারি বিভিন্ন দফতরে তার ছবিসহ প্রচারণা ও তোষণমূলক চর্চা রয়ে গেছে বেশ কটি প্রতিষ্ঠানে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত নাম হয়ে উঠেছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)।

‘অভ্যুত্থান’ বদলেছে সরকার, বদলায়নি চেতনার দালালরা

২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগের ছবি, প্রচারপত্র, ব্যানার, দলীয় প্রতীক এবং একনায়কতান্ত্রিক শাসনের নিদর্শনসমূহ মুছে ফেলার নির্দেশনা দেয় প্রশাসন। বেশিরভাগ দফতরই এ নির্দেশ মেনে শেখ মুজিব ও হাসিনার ছবিসহ পুরনো প্রচারণা সামগ্রী সরিয়ে নেয়। কিন্তু ডেসকো যেনো এ নির্দেশনার উল্টো পথেই হাঁটছে।

বর্তমানে যারা ডেসকোর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করছেন, তারা এখনও সেখানে পাচ্ছেন শেখ হাসিনার ছবি, মুজিববর্ষের লোগো এবং একসময়ের 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর স্লোগান। সর্বশেষ এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত রোবাবার মধ্যরাত ১২.০৪ মিনিটে ডেসকোর অ্যাপে এমন শ্লোগান ও ছবি দেখা যায়।

প্রশ্নের মুখে ডেসকোর দুর্নীতিবাজ চক্র

ডেসকোর একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন— ডেসকোর আইটি বিভাগ এবং শীর্ষ পর্যায়ে এখনও কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন যারা আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ও প্রত্যক্ষ দলীয় আনুগত্যে বিশ্বাসী। তারা নাকি ইচ্ছাকৃতভাবেই অ্যাপে এসব উপাদান রেখে দিয়েছেন যাতে নতুন প্রশাসনকে বিব্রত করা যায় অথবা তোষণের সুযোগ অব্যাহত থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন,

হাসিনা আমলে যারা সুবিধাভোগী ছিলো, তারাই এখন এসব সফটওয়্যারে বদল আনার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে। নতুন কোনো আইডিয়া আসলেই বলে— বাজেট নেই, সময় লাগবে। অথচ এক ক্লিকেই এ ছবি সরানো যায়।

পরিবর্তনের নামে প্রতারণা?

অভ্যুত্থানের পর নতুন অন্তর্বর্তী সরকার যেখানে ‘দুর্নীতিমুক্ত ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষ প্রশাসন’ গড়ার শপথ নিয়েছে, সেখানে এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে— সরকার কি আদৌ সবখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র সরকারের বদল হলেই হয় না, প্রয়োজন হয় আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর আমূল সংস্কার। সুশাসনের জন্য জনবিচ্ছিন্ন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে না পারলে এসব 'প্রেতাত্মা' আরও বহুদিন মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

প্রতিক্রিয়া: ‘প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট-অ্যাপ তদারকিতে স্বচ্ছতা জরুরি’

আইসিটি নীতিমালার এক প্রাক্তন নীতিনির্ধারক বলেন,

সরকার পরিবর্তনের পর এতো সময় পেরিয়ে গেছে। এখনও যদি কোনও সরকারি অ্যাপে আগের সরকার প্রধানের ছবি থাকে, সেটা নিছক গাফিলতি নয়, সেটা উদ্দেশ্যমূলক। এসব চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

নতুন সরকারের অবস্থান কী?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব জানান,

আমরা প্রতিটি সরকারি ওয়েবসাইট ও অ্যাপ পর্যালোচনা করছি। যেসব জায়গায় এখনও পুরনো সরকারের প্রতীক বা প্রচার রয়েছে, তা দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ডেসকো যদি এখনও পরিবর্তন না করে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিশেষে প্রশ্ন: 

এক বছর পরও যদি প্রাক্তন শাসকের ছবি সরকারি অ্যাপে থাকে, তাহলে কি বলা যায়— হাসিনার সরকারই কেবল গেছে, হাসিনার ‘চেতনা’ আজও আমাদের নাগপাশে?

ডেসকোর এ আচরণকে ‘পরোক্ষ রাষ্ট্রদ্রোহ’ হিসেবেই দেখছেন ছাত্র ও নাগরিক সমাজের অনেকে। এবং তাদের একটাই দাবি— ‘ডেসকোর অ্যাপ নয়, গোটা প্রশাসনেই চাই পূর্ণরূপে হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন