Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:২৩, ৬ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের আড়ালে মেক্সিকোয় মানবপাচার ও যৌন বাণিজ্যের বিস্তার

বিশ্বকাপের আড়ালে মেক্সিকোয় মানবপাচার ও যৌন বাণিজ্যের বিস্তার
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ, তখন অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোয় দেখা দিয়েছে উদ্বেগজনক এক মানবিক সংকট। বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীর আগমনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে মানবপাচার এবং জোরপূর্বক যৌন বাণিজ্যের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা।

মেক্সিকোর প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক ‘মিলেনিও’র এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুখ্যাত মাদক কার্টেল ও অপরাধী চক্রগুলো বিশ্বকাপকে অবৈধ আয়ের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। পর্যটকদের উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তারা যৌন বাণিজ্য ও মানবপাচার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।

এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকোতে ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। খেলা হবে দেশটির তিনটি বড় শহর—মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্তেররেইয়ে। অপরাধবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, এসব শহরের যৌন বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের বড় অংশই বর্তমানে সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গুয়াদালাহারা শহরকে দীর্ঘদিন ধরেই কুখ্যাত হালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেখানে যৌনকর্মীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয় এবং তাদের কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়।

অন্যদিকে, মন্তেররেই দক্ষিণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে ভেনিজুয়েলার কুখ্যাত গ্যাং ত্রেন দে আরাগুয়া এবং স্থানীয় ত্লাহুয়াক কার্টেল। বিশেষ করে শহরের বিনোদনকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে এসব গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানী মেক্সিকো সিটিতেও মানবপাচার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের বিভিন্ন অংশে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে। মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম ‘অ্যানিমেল পলিটিকো’র তথ্য অনুযায়ী, দেশটির শীর্ষ অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর বেশিরভাগই কোনও না কোনওভাবে জোরপূর্বক যৌন শোষণ থেকে আর্থিক সুবিধা অর্জন করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক পাচারের পাশাপাশি মানবপাচার এখন অনেক কার্টেলের জন্য লাভজনক আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক জোরপূর্বক যৌন শোষণ ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ অর্থনীতির পরিমাণ বছরে কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী নারীদের শুধু যৌন বাণিজ্যেই নয়, বরং মাদক পরিবহন, তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাধী গোষ্ঠীর অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডেও বাধ্য করা হয়। ফলে বিশ্বকাপকে ঘিরে পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লেও এর আড়ালে মানবপাচার ও শোষণের ঝুঁকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি, সীমান্ত পর্যবেক্ষণ এবং মানবপাচারবিরোধী সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফুটবল উৎসবের পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সবার দেশ ডেস্ক

শীর্ষ সংবাদ:

সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট ঘোষণা এনসিপির
ইউরোপে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের, তপু বর্মণের জোড়া গোল
শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন
বেনাপোলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আটক-২
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাল এনআইডি-পাসপোর্ট চক্রের বিস্তার
বিশ্বকাপের আড়ালে মেক্সিকোয় মানবপাচার ও যৌন বাণিজ্যের বিস্তার
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল, সরে গেলো পুলিশ
ভারতের নতুন ‘পুশইন’ চেষ্টা: ৪ সীমান্তে আটকা ৮৮ জন
বিশ্বকাপে ক্যানাডা কতটা শক্তিধর?
সিরাজগঞ্জের বাসচাপায় তিন ভ্যানযাত্রী নিহত
ইরান ইস্যুতে রিপাবলিকানদের বিভাজন, ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা
ভৈরবে দুই পক্ষের সংঘর্ষ; ৬ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০০ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা
আইভীর বাড়ির সামনে পুলিশি নজরদারি