মুহুর্মুহু আক্রমণে তটস্থ বার্সেলোনা
অফসাইড বিতর্ক ও রোমাঞ্চে ভরা ক্লাসিকো, শীর্ষে রিয়াল
টানা চার ক্লাসিকো হারার পর অবশেষে জয় দিয়ে গর্ব ফিরে পেলো রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আলো ঝলমলে পরিবেশে রোমাঞ্চকর ম্যাচে তিনটি গোল অফসাইডে বাতিল, একটি পেনাল্টি মিস এবং শেষ মুহূর্তের হাতাহাতি—সব মিলিয়ে এ মৌসুমের প্রথম ‘এল ক্লাসিকো’ হয়ে উঠেছিলো এক উত্তেজনায় ভরা ফুটবল নাটক। শেষ পর্যন্ত ২–১ গোলে জিতে লা লিগার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল কার্লো আনচেলত্তির দল।
প্রথমার্ধেই গোল ও অ্যাসিস্ট করে নতুন ইতিহাস গড়েন তরুণ ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহ্যাম। মাত্র ২২ বছর ১১৯ দিনে তিনি হয়ে যান ২১ শতকের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়, যিনি এল ক্লাসিকোতে এক ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট দুটোই করেছেন। পুরো ম্যাচে রিয়াল নেয় ২১টি শট, যার মধ্যে ৯টি ছিলো টার্গেটে। অন্যদিকে বার্সেলোনার ১৩ শটের মধ্যে ৬টি লক্ষ্যে যায়।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে আধিপত্য দেখায় রিয়াল। ১৩তম মিনিটে দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে জালের দেখা পান কিলিয়ান এমবাপ্পে, কিন্তু ভিএআরে দেখা যায় সামান্য অফসাইড—গোল বাতিল। এরপর আরেকটি পেনাল্টির দাবিও রেফারি খারিজ করে দেন। শেষ পর্যন্ত ২৩তম মিনিটে বেলিংহ্যামের নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে।
তবে ৩৮তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গোল করে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। মার্কাস রাশফোর্ডের কাটব্যাকে সুযোগ কাজে লাগান তরুণ তারকা ফেরমিন লোপেজ। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে আবারও ঝলক দেখান বেলিংহ্যাম। ৪৩তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের দারুণ ক্রস থেকে ছোট্ট ট্যাপে গোল করে রিয়ালকে ফের এগিয়ে নেন এ ইংলিশ মিডফিল্ডার।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরায় বার্সা। ৫১তম মিনিটে এমবাপ্পের নেয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ভয়চেক সেজনি। ৬৯তম মিনিটে বেলিংহ্যামের আরেকটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমে উত্তেজনা বাড়ে আরও—যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পেদ্রি, এরপর দুদলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়।
তবুও শেষ বাঁশিতে হাসি থাকে রিয়ালের মুখে। এ জয়ে ১০ ম্যাচে ৯ জয় ও ১ হারে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়ে গেছে এক নম্বরে। সমান ম্যাচে ৭ জয়, ১ ড্র ও ২ হারে ২২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে বার্সেলোনা।
আজকের ম্যাচে গোল করে নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২১ শতকে বার্সার বিপক্ষে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় এখন তিনি তৃতীয়—৯ ম্যাচে ১২ গোল। শীর্ষে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (২০ গোল, ৩৪ ম্যাচ) এবং দ্বিতীয় স্থানে করিম বেঞ্জেমা (১৬ গোল, ৪৬ ম্যাচ)।
রিয়ালের জন্য এটি শুধু এক ক্লাসিকো জয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও এক দারুণ সন্ধ্যা—যেখানে নতুন তারকারা প্রমাণ করেছেন, এ রিয়াল আবারও ইউরোপীয় ফুটবলের ছন্দে ফিরছে।
সবার দেশ/কেএম




























