নেপথ্যে কী ঘটলো!
বিসিবিতে পুনর্বহাল নাজমুল
বিসিবির ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আবারও দায়িত্বে ফিরেছেন এম নাজমুল ইসলাম। ক্রিকেটারদের নিয়ে বেফাঁস মন্তব্যের জেরে যার পদত্যাগ দাবিতে খেলা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব), সে নাজমুলকেই নীরবে পুনর্বহাল করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ঘটনার সূত্রপাত ১৫ জানুয়ারি। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের সামনে ক্রিকেটারদের নিয়ে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয় এম নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কোয়াব তার পদত্যাগ দাবি করে এবং খেলোয়াড়রা খেলা বয়কটের ঘোষণা দেন। টানা চাপের মুখে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল একপ্রকার বাধ্য হয়েই নাজমুলকে ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেন। বিষয়টি তখন বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই জানানো হয়েছিলো।
এরপর ক্রিকেটারদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয় এবং মাঠে ফেরানো হয় খেলোয়াড়দের। বিপিএল চলাকালীন পুরো বিষয়টি আর সামনে আসতে দেননি বিসিবি সভাপতি। ২৩ জানুয়ারি বিপিএলের ফাইনাল শেষ হওয়ার পর ক্রিকেটাররা ছুটিতে গেলে, সে ফাঁকেই দৃশ্যপট পাল্টে যায়।
শনিবার বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের তৃতীয় সভায় এম নাজমুল ইসলামকে আবার ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিসিবি শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যান ফাইয়াজুর রহমান মিতু। অন্যদিকে সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন জানান, সভাপতির ক্ষমতাবলেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এম নাজমুল ইসলাম বিসিবি সভাপতির কোরামের একজন পরিচালক। এ কারণেই ক্রিকেটারদের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যান ফাইয়াজুর রহমান মিতু ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে নাজমুলের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হওয়ায় কমিটি ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছে এবং সেটির ভিত্তিতেই বোর্ড সভায় পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়।
নাজমুলকে ফের দায়িত্বে আনার ঘটনায় ক্রিকেটারদের আন্দোলন কতটা কার্যকর ছিলো, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে। কোয়াবের আন্দোলন ভুল ছিলো কিনা—এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে সিনিয়র সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সভাপতির ক্ষমতাবলেই নাজমুল ইসলামকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। তার দাবি, ফিন্যান্স কমিটির দায়িত্ব নিতে আগ্রহী কেউ না থাকায় এবং নাজমুলকে ব্যক্তিগতভাবে সৎ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিসিবি সভাপতির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যেও চাপা অস্বস্তি বিরাজ করছে। প্রকাশ্যে কেউই মুখ খুলতে রাজি হননি। কোয়াব সভাপতি মিঠুনও বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। এমনকি সাবেক ক্রিকেটাররাও প্রতিক্রিয়া জানাতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার বলেন, এখন সবাই এক ধরনের মব ভয়ের মধ্যে আছেন। কোয়াব সভাপতিকে যেভাবে দেশ-বিদেশ থেকে হুমকি দেয়া হয়েছে, তা উদ্বেগজনক। তার মতে, এখন কিছু বললে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করাই নিরাপদ মনে করছেন তারা। নির্বাচিত সরকার এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এমন আশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























