ইসলামাবাদ বৈঠকের আগে কঠোর শর্ত তেহরানের
ইরানের ১০ দফায় ট্রাম্পের দফারফা!
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আগে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে শুধু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়—পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে নেয়ার মতো কঠোর শর্তও রাখা হয়েছে।
সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, এ প্রস্তাবগুলোকে ইরান কৌশলগত ‘রেড লাইন’ হিসেবেই বিবেচনা করছে। নিচে প্রস্তাবগুলোর মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো—
হরমুজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা
কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-তে ‘নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এর আওতায় একটি ‘নিরাপদ ট্রানজিট প্রটোকল’ তৈরির কথা বলা হয়েছে, যা কার্যকর হলে এ নৌপথে তেহরানের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরানের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও মোতায়েন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান। অর্থাৎ, শুধুমাত্র উত্তেজনা কমানো নয়—মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতেই বড় পরিবর্তন চায় ইরান।
মিত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা
ইরান তাদের ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা বন্ধের শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহ, হামাস এবং হুতি-এর মতো গোষ্ঠী।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সম্পদ মুক্তির দাবি
ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ফেরত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নেতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের শর্ত দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে International Atomic Energy Agency-এর ভূমিকাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি
গত কয়েক বছরে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান—যা আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা
ইরান চায়, সম্ভাব্য যে কোনও চুক্তি United Nations Security Council-এর বাধ্যতামূলক প্রস্তাব হিসেবে গৃহীত হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনও পক্ষ একতরফাভাবে সরে যেতে না পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ১০ দফা প্রস্তাব শুধু একটি আলোচনার কাঠামো নয়—বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারণের একটি প্রচেষ্টা। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এ কঠোর শর্তের কতটুকু গ্রহণ করে এবং ইসলামাবাদের আলোচনায় এর প্রতিফলন কীভাবে দেখা যায়।
সবার দেশ/কেএম




























