রাবিতে ‘ছাত্রলীগমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে প্রতীকী ‘দে ধাওয়া’ কর্মসূচি
২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনাকে স্মরণ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘ছাত্রলীগমুক্ত দিবস’ পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। দিবসটি উপলক্ষে ‘দে ধাওয়া’ শিরোনামে একটি প্রতীকী ধাওয়া (ম্যারাথন) কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রতীকীভাবে ২০২৪ সালের আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিজয়-২৪ হল ছাত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি শুরু হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার বিজয়-২৪ হলের সামনে এসে কর্মসূচি শেষ করেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন দেখা যায়। আয়োজকদের ভাষ্য, প্রতীকী ম্যারাথনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত ঘটনাবলিকে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের এ দিনে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে ছাত্রলীগমুক্ত করা হয়েছিলো। সে স্মৃতিকে ধরে রাখতেই ‘দে ধাওয়া’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সব ধরনের সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অবস্থান তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, দুই বছর আগে একটি ছাত্রসংগঠন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলো। আন্দোলনের মুখে তারা যেভাবে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলো, আজকের আয়োজন তারই প্রতীকী উপস্থাপন।
তিনি বলেন, এরপর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ আর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সাহস দেখাতে পারেনি। জুলাইয়ের দিনগুলো দেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইন্টারনেট বন্ধ ও কারফিউ চলাকালেও রাজশাহীতে আন্দোলনের সমন্বয় বজায় ছিলো। সে ইতিহাস স্মরণে প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
বিজয়-২৪ হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) রাসেল মিয়া বলেন, এ আয়োজন ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার প্রতীকী পুনর্নির্মাণ। সেদিন তৎকালীন বঙ্গবন্ধু হল, মতিহার হল ও শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। প্রতীকী ম্যারাথনে সে সময়ের ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার প্রতীকী চরিত্রও উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে নতুন শিক্ষার্থীরা ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সে সময়ের ঘটনাবলি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতেও জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিন স্মরণে নানা কর্মসূচি পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সবার দেশ/কেএম




























