মধ্যরাতে শিক্ষার্থী নেমে এলেন রাজপথে
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নাশকতার প্রতিবাদে উত্তাল ঢাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় বুধবার (১২ নভেম্বর) রাতে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার (৪৮) নামে এক পথচারী আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত ব্যক্তি জানান, আজিমপুরের বাসায় ফেরার পথে হঠাৎ বিস্ফোরণে তার পিঠে স্প্লিন্টার লেগে আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রাত ৯টা ২১ মিনিটের দিকে টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গেটের বিপরীতে একটি চায়ের দোকানের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পাশের একটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলের মালিক নাজমুস সাকিব বলেন, আমি চা খাচ্ছিলাম, হঠাৎ ককটেল এসে পড়ে। পরে দেখি বাইকের তেলের ট্যাংক ফেটে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দিক থেকে কেউ ককটেল নিক্ষেপ করেছে। ঘটনার তদন্তে প্রক্টোরিয়াল টিম পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের কাজও চলছে।
বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা
‘একটা একটা লীগ ধর, ধরে ধরে জেলে ভর’, ‘খুনি লীগের বিচার চাই’, ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দিয়ে প্রতিরোধ প্রদর্শন করেন।
ঢাক বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম বলেন,
যারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। প্রশাসনকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের প্রতিটি পয়েন্টে অবস্থান নেবে এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের উপস্থিতি প্রতিরোধ করবে।
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসিস চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্ট ও দেশবিরোধী চক্র আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে। ১৩ নভেম্বর শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্তের অংশ এটি।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার শৈথিল্যই ঘটনার মূল কারণ। এক শিক্ষার্থী বলেন, আজ রাসেল টাওয়ারের গেটে কিছু অচেনা তরুণ কার্ড চেক করছিলেন। সাধারণত বিএনসিসি বা স্কাউট সদস্যরা এ দায়িত্বে থাকে, অচেনা ছেলেদের দায়িত্বে থাকা সন্দেহজনক।
ঘটনার কিছুক্ষণ আগে টিএসসি প্রাঙ্গণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছিলো। অনুষ্ঠানে ১২টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। উপস্থাপক রিয়াদুল ইসলাম যুবাহ জানান, বিস্ফোরণের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন।
ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আফফান বক্তৃতায় পতিত ফ্যাসিস্ট শাসনের বিচার, শেখ হাসিনার ফাঁসি, এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
সবার দেশ/কেএম




























