নিজ দলেই চাপে ট্রাম্প
ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ২০০ বিলিয়ন ডলার চাইলো পেন্টাগন
ইরানে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দফতর পেন্টাগন। মার্কিন কংগ্রেসের কাছে প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তহবিলের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করলেও নির্দিষ্টভাবে ইরান যুদ্ধের খরচ উল্লেখ না করে বলেছেন, ‘অনেকগুলো বিষয়ে’ এ অর্থ দরকার।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ইরানে সামরিক অভিযানের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে খরচ আরও বাড়বে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তার ভাষায়, এ অঙ্ক পরিবর্তন হতে পারে, কারণ খারাপ লোকদের মারতে অর্থ লাগে।
কিন্তু এ বাজেট পাস করানো সহজ হবে না। কারণ ট্রাম্পকে এবার লড়তে হচ্ছে নিজের দল রিপাবলিকান পার্টি-এর ভেতর থেকেই ওঠা বিরোধিতার মুখে।
রিপাবলিকান প্রতিনিধি লরেন বোবার্ট সিএনএনকে বলেন,
আমি এ প্রস্তাবের পক্ষে নই। যেকোনও যুদ্ধ সাপ্লিমেন্টালে আমি না। মানুষ অর্থনৈতিক চাপে আছে, এখন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দরকার।
একই সুরে টেক্সাসের প্রতিনিধি চিপ রয় প্রশ্ন তোলেন, আমরা আসলে কী করছি? স্থলসেনা মোতায়েনের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে—কিন্তু এর উদ্দেশ্য ও অর্থায়ন পরিষ্কার নয়।
কেন্টাকির প্রতিনিধি থমাস মাসি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এটা কি প্রথম ২০০ বিলিয়ন? নাকি একসময় তা ট্রিলিয়নে গিয়ে ঠেকবে?
মধ্যপন্থী সিনেটর লিসা মুরকাউস্কি-ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, যুদ্ধ কতদিন চলবে, কত খরচ হবে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর তার কাছেও নেই।
স্থলসেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা রিপাবলিকানদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাবেক নেভি সিল ও প্রতিনিধি ডেরিক ভ্যান অর্ডেন সরাসরি প্রশাসনকে স্থলসেনা না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন। টেনেসির প্রতিনিধি টিম বার্চেট বলেন,
যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে আসার কৌশল খুঁজতে হবে।
এদিকে হাউস স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, মিশন ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।
সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন বলেছেন, বিলটি পাস হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। ফিলিবাস্টার এড়াতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনও প্রয়োজন হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি সামনে থাকা মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।
ডেলাওয়্যারের ডোভার এয়ারফোর্স বেস-এ কুয়েতে নিহত ছয় মার্কিন সেনার লাশ গ্রহণ করতে গিয়ে প্রতিনিধি মাইক ফ্লাড বলেন,
সবাই চায় এটা শেষ হোক। পরিবারগুলোর কষ্ট আর দেখতে চাই না।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক নয়—মার্কিন রাজনীতির ভেতরেও বড় ধরনের চাপ ও বিভাজনের কারণ হয়ে উঠেছে।
সবার দেশ/কেএম




























