নিরাপদ জাহাজ চলাচলে যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা
হরমুজ প্রণালি খুলতে এগোচ্ছে ৬ দেশ
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে ‘যথাযথ প্রচেষ্টায়’ অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপ ও এশিয়ার ছয়টি দেশ। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
এই ছয় দেশ হলো যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান। বৃহস্পতিবার দেয়া এ বিবৃতিতে তারা হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়।
তবে ‘যথাযথ প্রচেষ্টা’ বলতে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে বিষয়ে দেশগুলো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। তারা তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। উৎপাদন বাড়ানো ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি হতো।
ইরান দাবি করে আসছে, প্রণালি খোলা রয়েছে। তবে তাদের অবস্থান হলো—হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ এ পথ ব্যবহার করতে পারবে না। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং তা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে হরমুজ প্রণালি সচল করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। যদিও এতদিন ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলো তার এ আহ্বানে সাড়া দেয়নি।
এর মধ্যেই নতুন এই যৌথ বিবৃতি এল, যখন হোয়াইট হাউসে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ৯৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করা জাপান তার জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবশ্যই আগ্রহী থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এ নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা কমাতে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স
সবার দেশ/কেএম




























