সামরিক উড্ডয়ন অনুমতি দিলো না সুইজারল্যান্ড
ইরান যুদ্ধে মিত্রহীন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না। একের পর এক মিত্রদেশ সামরিক সহযোগিতায় অনীহা দেখানোর পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড্ডয়ন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপের নিরপেক্ষ দেশ সুইজারল্যান্ড।
শনিবার (১৪ মার্চ) সুইজারল্যান্ডের সরকার জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ওভারফ্লাইট বা আকাশপথ ব্যবহার করার অনুরোধ তারা নাকচ করেছে। দেশটির ফেডারেল কাউন্সিলের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতা নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিধান বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির ‘ল অব নিউট্রালিটি’ বা নিরপেক্ষতার আইনের আওতায় যুদ্ধরত কোনও পক্ষকে সরাসরি সামরিক সুবিধা দেয়া থেকে বিরত থাকার নীতি অনুসরণ করা হয়।
তবে সুইস সরকার জানায়, সম্পূর্ণ সামরিক কার্যক্রম নয়—এমন কিছু সীমিত উড্ডয়ন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি রক্ষণাবেক্ষণ ফ্লাইট এবং পরিবহন বিমানের দুটি ওভারফ্লাইট অনুমতি পেয়েছে। কিন্তু যুদ্ধসংক্রান্ত সামরিক উড্ডয়নকে অনুমোদন দেয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কূটনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ ইরানকে ঘিরে সংঘাত বাড়তে থাকলেও ইউরোপের অনেক দেশ সরাসরি সামরিক জড়িত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
এর আগে কানাডা, স্পেন, যুক্তরাজ্য এবং ইতালির মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও ইরানবিরোধী সামরিক তৎপরতায় সরাসরি জড়াতে অনীহা দেখিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, তাহলে তার দেশ কঠোর জবাব দেবে।
তার ভাষায়, ইরানের স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন কোম্পানির স্থাপনা কিংবা যেসব কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার রয়েছে—সেগুলোও পাল্টা হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত ইতোমধ্যেই ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচটি রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এ সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও বড় সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও।
সূত্র: সিএনএন
সবার দেশ/কেএম




























