২৬ লাখ রুপির দেনায় চেন্নাই হাসপাতালের মর্গে
বকেয়া বিলেই আটকে আছে সাহিত্যিক বকুল হায়দারের লাশ
বাংলা শিশু সাহিত্য অঙ্গনের পরিচিত মুখ, ছড়াকার ও গবেষক বকুল হায়দার–এর লাশ ভারতের চেন্নাইয়ের Apollo Hospital Chennai–এর মর্গে পড়ে আছে। হাসপাতালের প্রায় ২৬ লাখ রুপি বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় লাশটি এখনও দেশে আনা সম্ভব হয়নি।
২৪ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে ৬২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন তিনি। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দীর্ঘদিন ধরে লিভার জটিলতা ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগছিলেন এ সাহিত্যিক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা ও এক পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি তিনি ভারতে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৬ মার্চ তাকে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শ্বাসকষ্ট ও রক্তবমির কারণে আইসিইউতে নেয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আশির ও নব্বইয়ের দশকে শিশু সাহিত্য ও ছড়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন বকুল হায়দার। ‘আকাশের টিপ’, ‘রঙের মানুষ’, ‘এইদিন সেইদিন’ ও ‘পাথর বাড়ির নীল রহস্য’ তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। তার মৃত্যুতে সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সহকর্মী, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা শোক প্রকাশ করছেন।
পেশাগত জীবনে ঠিকাদারি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও দীর্ঘদিনের ব্যয়বহুল চিকিৎসায় তিনি আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। সহায়-সম্পদ বিক্রি ও আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় তার চিকিৎসা চলছিলো। আত্মমর্যাদাবোধের কারণে তিনি কখনও কারও কাছে সরাসরি সাহায্য চাননি বলেও জানিয়েছেন স্বজনরা।
বর্তমানে বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ হস্তান্তর করছে না। এতে করে লাশ দেশে এনে দাফন সম্পন্ন করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবার।
এ অবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট সংস্থা ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে পরিবার। তাদের আশা, দ্রুত সহায়তা পেলে প্রিয়জনের লাশ দেশে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
সবার দেশ/কেএম




























