খোররামশাহর-৪
ইরানের এক ক্ষেপণাস্ত্র কি বদলে দেবে যুদ্ধের সমীকরণ!
ইরানের সমরভাণ্ডারে নতুন সংযোজন খোররামশাহর-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সম্প্রতি তাদের ভূগর্ভস্থ ‘ক্ষেপণাস্ত্র নগরী’ থেকে এ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী করলে আন্তর্জাতিক মহলে তা ব্যাপক মনোযোগ কাড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, খোররামশাহর-৪ কেবল একটি নতুন অস্ত্র নয়; এটি ইরানের সামরিক কৌশলের একটি উন্নত ধাপের প্রতিফলন। ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত স্থাপনায় এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের মাধ্যমে ইরান সম্ভাব্য আগাম হামলা থেকে তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে চায়। দ্রুত পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কারিগরি সক্ষমতার দিক থেকে খোররামশাহর-৪ ইরানের অন্যতম শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্র স্বল্প সময়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম। ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, বায়ুমণ্ডলের বাইরে এটি শব্দের গতির বহুগুণে চলতে পারে এবং লক্ষ্যভেদে অত্যন্ত নির্ভুল। এতে প্রায় ১,৫০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা রয়েছে, যা এর ধ্বংসক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
এ ক্ষেপণাস্ত্রে ম্যানুভারেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকেল (এমএআরভি) প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় এটি গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, যা প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রতিরোধে সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম রাডার সিগনেচার থাকার দাবিও করা হয়েছে। নির্ভুলতার ক্ষেত্রে এর সার্কুলার এরর প্রোবাবিলিটি (সিইপি) কম বলে ইরানি গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৌশলগতভাবে এ ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচনের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ইরান এ প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি শক্ত বার্তা দিতে চেয়েছে—তারা প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতায় আপস করবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খোররামশাহর-৪ ইরানের প্রতিরোধনীতির অংশ হিসেবে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাস্তবে এর কার্যকারিতা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এর পাল্টাপাল্টি সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য কৌশলগত ফলাফল নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র: তেহরান টাইমস
সবার দেশ/কেএম




























