দুই গোলে পিছিয়েও ইতিহাস গড়া জয় আর্জেন্টিনার
আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক এই প্রত্যাবর্তনকে শুধু একটি ম্যাচের ফল হিসেবে দেখলে পুরো গল্পটা ধরা পড়ে না। এটি একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাস, মানসিক দৃঢ়তা, মেসির রেকর্ড এবং আর্জেন্টিনার নকআউট চরিত্র—সবকিছুর মিলিত এক নাটকীয় অধ্যায়।
দুই গোল পিছিয়ে পড়ার পরও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ পর্যন্ত স্মরণীয় এক জয় নিয়ে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ও রচনা করল আর্জেন্টিনা। এর আগে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে জয় পাওয়ার নজির ছিল না তাদের। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে পিছিয়ে পড়া ম্যাচে জয়হীন থাকার ধারাও ভেঙে দিলো দলটি।
ম্যাচের বড় একটি অংশজুড়ে চাপে ছিল আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষের দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে সমর্থকদের হতাশ করে তারা। কিন্তু শেষ দিকে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের ঝড় তুলে একের পর এক গোল করে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলে আকাশি-সাদা জার্সিধারীরা।
ম্যাচটি অনেকের মনে ফিরিয়ে এনেছে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকোর বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাক্সি রদ্রিগেজের দুর্দান্ত গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। প্রায় দুই দশক পর আবারও নকআউট পর্বে স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব।
ম্যাচে পেনাল্টি মিস করে শুরুতে হতাশ করেন লিওনেল মেসি। এবারের বিশ্বকাপে তিনিই প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক আসরে দুইবার পেনাল্টি মিস করার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েন। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে ম্যাচের ৮৪ মিনিটে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। জোরালো শটে নেওয়া বলটি গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ক্রসবারের নিচে আঘাত করে জালে জড়িয়ে যায়।
এ গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটে। পাশাপাশি টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কৃতিত্বও অর্জন করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দল। আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে শেষ আটের সেই মহারণ।
দুই গোলের ধাক্কা, মেসির পেনাল্টি মিস, মিশরের দুর্দান্ত প্রতিরোধ—সবকিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা দেখিয়ে দিলো কেনো তারা বিশ্বকাপের অন্যতম বড় শক্তি। এ জয় শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নয়, বরং ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়া এক স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন।
সবার দেশ/কেএম




























