রেমিট্যান্স ও রফতানিতে চাঙা দেশ, কমলো ডলারের দাম
চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স, রফতানি ও রিজার্ভে ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি আমদানির লাগাম টেনে ধরে ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। আর এ ধারা সম্ভব হয়েছে ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ ও প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহের কারণে।
গত ১৫ মে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দামে পূর্বনির্ধারিত ‘কার্টেল ভিত্তিক’ সীমা তুলে দেয়। নতুন ব্যবস্থায় এখন ব্যাংক ও গ্রাহক নিজেরাই দর নির্ধারণ করছে। প্রথমে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন এতে ডলারের দাম হু হু করে বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি—বরং কিছুটা কমেছে। ফলে আমদানি খরচ কমে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফেরাতে সহায়ক হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশের পণ্য রফতানি হয়েছে ৪ হাজার ৮৭ কোটি ডলারের। একই সময়ে আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ২৫ কোটি ডলারের পণ্য। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৩৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪.১৭ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিলো ২ হাজার ২২ কোটি ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বাণিজ্য ভারসাম্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এ উন্নয়নের পেছনে বড় অবদান রেখেছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) রেমিট্যান্স এসেছে রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়নের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। প্রবাসী আয়ের এ ধারাবাহিক উল্লম্ফন দেশের ডলার সংকট দূর করতে বড় ভূমিকা রেখেছে এবং মুদ্রাবাজারে চাপ কমিয়েছে।
ডলার প্রবাহ ও রফতানিতে ইতিবাচক প্রবণতার প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও। অর্থবছর শেষে দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগের বছর শেষে রিজার্ভ ছিলো ২৬ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলার বিনিময় হার অবমুক্তকরণ, রেমিট্যান্সে প্রণোদনা কার্যকর তদারকি ও রফতানি বাণিজ্যের স্থিতিশীল প্রবাহের সম্মিলিত ফলেই এ অর্থনৈতিক ভারসাম্য অর্জিত হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক দেনার দায় পরিশোধ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে এসব সূচকের এ ইতিবাচক ধারা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সবার দেশ/কেএম




























