জ্বালানি সংকটে পাকিস্তানে গণপরিবহন ফ্রি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার—নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু করা হয়েছে বিনামূল্যের গণপরিবহন সেবা।
শুক্রবার দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার (৪ মার্চ) থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ এবং পাঞ্জাব প্রদেশে এ ফ্রি গণপরিবহন ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাধারণ নাগরিকরা বাস, মেট্রো ও ট্রেনসহ বিভিন্ন সরকারি পরিবহনে বিনা ভাড়ায় চলাচল করতে পারবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী এবং নিম্ন আয়ের মানুষের যাতায়াত ব্যয় কমিয়ে আনা। জ্বালানির লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন এ শ্রেণির মানুষ।
সম্প্রতি পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড বৃদ্ধি দেখা গেছে। এক লাফে পেট্রলের দাম ১৩৭.২৩ রুপি থেকে বেড়ে ৪৫৮.৪১ রুপিতে পৌঁছেছে। একইভাবে ডিজেলের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২০.৩৫ রুপিতে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
এ সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ-এর নির্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী ৩০ দিনের জন্য সব ধরনের সরকারি বাস ফ্রি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন রুপি ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাঞ্জাব প্রদেশেও নেয়া হয়েছে বড় ধরনের উদ্যোগ। মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নেওয়াজ এক বিশেষ ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় প্রদেশের অরেঞ্জ লাইন ট্রেন, মেট্রো বাস, স্পিডো বাস এবং গ্রিন ইলেকট্রিক বাসসহ সব সরকারি গণপরিবহনে যাত্রীরা বিনামূল্যে ভ্রমণ করতে পারবেন।
সরকার বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই নাগরিকদের ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল মালিকদের ভর্তুকি সুবিধা পেতে দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষের কিছুটা স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আরও টেকসই নীতির প্রয়োজন হবে। তবে আপাতত এ সিদ্ধান্তে নিত্যদিনের যাতায়াতে ব্যয় কমে মানুষের কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























