দিল্লিতে হাসিনা-এস আলম গোপন বৈঠক, সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র
ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর ফ্যাসিস্ট হাসিনা বর্তমানে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পলাতক আছেন। দেশের বাইরে থেকেও তিনি অন্তর্বর্তী সরকার হটিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে নানা কৌশল সাজাচ্ছেন। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দিল্লিতে সম্প্রতি গোপন বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা ও এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৌশল এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার নানা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছেন এস আলম, পাশাপাশি আরও দুই হাজার কোটি টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এ অর্থ দিয়ে দেশে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা ও অন্তর্বর্তী সরকারকে হটানোর ছক কষা হচ্ছে। পরিকল্পনায় পলাতক আওয়ামী নেতাদের পাশাপাশি সাবেক আমলা, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা জড়িত। দলীয় ক্যাডারদেরও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
এছাড়া জানা গেছে, উমরাহ পালনের অজুহাতে এস আলম সম্প্রতি সৌদি আরব গিয়েছিলেন। তবে প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিলো পলাতক আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক। মক্কার ফেয়ারমন্ট হোটেলে এসব বৈঠক হয়। সেখানে দেশবিরোধী নানা পরিকল্পনা ছাড়াও অর্থ পাচারের মাধ্যমে মক্কায় একটি বিলাসবহুল হোটেল কেনার বিষয়েও একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। পরে মদিনার ইলাফ আল তাকওয়া হোটেলে অবস্থান করে চট্টগ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী ব্যবসায়ীর সঙ্গে বৈঠক করেন এস আলম।
৬ আগস্ট সৌদি আরব থেকে তিনি সরাসরি দুবাই যান এবং সেখান থেকে বিশেষ ফ্লাইটে ভারতের নয়া দিল্লিতে পৌঁছান। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন স্ত্রী ফারজানা পারভীন, তাদের ছোট ছেলে এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এক চেয়ারম্যান। দিল্লিতে তারা ওঠেন দ্য ওবেরয় নিউ দিল্লি হোটেলে। সেখানে পলাতক সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ কয়েকজন আওয়ামী নেতা তার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
এস আলমের সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিলো শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন বৈঠক। ৮ আগস্ট দুপুরে সব যোগাযোগ ডিভাইস হোটেলে রেখে তিনি নম্বরবিহীন গাড়িতে হাসিনার বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে একাধিকবার গাড়ি পরিবর্তনের পর তিনি লুটিয়েন্স বাংলো জোনে পৌঁছান। সেখানেই শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দীর্ঘ বৈঠক হয়, যা দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী ছিলো। ওই বৈঠকে ভারতের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বৈঠকে ক্ষমতায় ফেরার পরিকল্পনায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চান এবং এস আলম এ অর্থ দিতে সম্মত হন। অর্থের বড় অংশ খরচ হবে পাঁচটি খাতে—
- আন্তর্জাতিক লবি ও নীতিনির্ধারকদের ম্যানেজ করা
- নভেম্বর-ডিসেম্বরে সারা দেশে নাশকতা ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টি
- সরকারি আমলা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রভাবিত করা
- আওয়ামী নেতাকর্মীদের জামিনের জন্য অর্থ ব্যয়
- এস আলমের মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ব্যবহার করে আন্দোলন সংগঠিত করা।
এ অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে দায়িত্ব পেয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
এ বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ভারতীয় মাটিতে বসে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ।
সবার দেশ/কেএম




























