শিক্ষক ও জামায়াতের কর্মসূচিতে চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী
থমকে দাঁড়ালো রাজধানী!
রাজধানী ঢাকায় মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া একাধিক রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কর্মসূচিতে পুরো শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। একদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি, অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা সাতটি ইসলামী দলের দেশজুড়ে মানববন্ধন—এ দুই কর্মসূচির সংঘাতে রাজধানীর সড়কগুলোয় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
সকাল থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো শিক্ষক সচিবালয়ের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। তাদের দাবি—মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং বকেয়া ভাতা প্রদানের সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন। আন্দোলনের অন্যতম নেতা অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, সরকার শুধু আশ্বাস দিচ্ছে, বাস্তবে কিছুই করছে না। প্রজ্ঞাপন না পাওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।
এদিকে, একই সময়ে যাত্রাবাড়ী থেকে গাবতলী পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কজুড়ে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ সমমনা সাতটি ইসলামী রাজনৈতিক দলের বিশাল মানববন্ধন চলে। দলগুলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন, জুলাই সনদের বৈধতা, দুর্নীতির বিচার এবং স্বৈরাচারবিরোধী কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানায়।
ফলে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো—মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মিরপুর রোড ও আসাদগেট—প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ট্রাফিক বিভাগ জানায়, সকাল ১০টার পর থেকেই যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। হাজার হাজার গাড়ি ঘন্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে, ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়ে।
এক অফিসযাত্রী বলেন, মিরপুর থেকে মতিঝিল যেতে আমার তিন ঘণ্টা লেগেছে। রাস্তায় মনে হচ্ছিলো শহরটাই বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে পথচারীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী কর্মসূচির নামে রাজধানীজুড়ে একপ্রকার অবরোধ সৃষ্টি হয়েছে। কেউ হেঁটে, কেউ রিকশায় করে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে এ কর্মসূচিগুলো রাজধানীতে অস্থিরতা তৈরি করছে। তারা মনে করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বিষয়ক দাবি যুক্তিসঙ্গত হলেও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তা রাজনৈতিক অস্থিরতার রূপ নিচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত ও সমমনা দলের মানববন্ধনকে বিশ্লেষকরা দেখছেন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে।
ফলাফল—রাজধানীর সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবিরতা, ক্ষোভে ফুঁসছে নগরবাসী, আর ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যেন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























