Sobar Desh | সবার দেশ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:০৫, ১৩ জুলাই ২০২৫

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের ভাইয়ের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের ভাইয়ের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে বিএনপির উপজেলা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শনিবার (১২ জুলাই) রাতে কাউন্সিল শেষে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন।

রাত ৯টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী সমীর উদ্দিন কলেজ মাঠে ঘটে এ ঘটনা। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তার ওপর চেয়ার ও বাঁশ ছুড়ে হামলা চালায় এবং তার ব্যবহৃত গাড়িটি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করে। ঘটনাস্থলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, আহত হন বিএনপির আরও কয়েকজন নেতাকর্মী।

তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধের পরেই হামলা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা ঘিরে কাউন্সিলস্থলে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি জানান দ্রুত ফল প্রকাশের। দাবি না মানায় মির্জা ফয়সালসহ জেলা নেতাদের প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তারা স্লোগান দিতে থাকেন, ফলাফল না দিলে কেউ বের হতে পারবে না।

রাত ৯টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন মির্জা ফয়সাল। এরপর তিনি গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করলে, ওৎ পেতে থাকা বিক্ষুব্ধ অংশ তার ওপর চড়াও হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উপর্যুপরি চেয়ার নিক্ষেপের সময় তিনি দৌঁড়ে গাড়িতে উঠতে যান। হামলাকারীরা সেখানেও হামলা চালায়, ভাঙচুর করে গাড়ি।

প্রাণে রক্ষা পেলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে

গাড়ির মালিক ও ফয়সালের সফরসঙ্গী মো. রাশেদ জানান, আমরা ভাবতেও পারিনি নিজেদের দলের কাউন্সিলে এমন বিপদের মুখে পড়তে হবে। ভাইয়া কোনো কড়া কিছু বলেননি, তবুও কিছু লোক আচমকা হামলা চালায়। আমার গাড়িটিও রক্ষা পায়নি।

ঘটনাস্থলে পুলিশ, তদন্ত চলছে

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, ফলাফল ঘোষণার পর হামলার খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে হামলাকারীরা এরই মধ্যে পালিয়ে যায়। কারা জড়িত তা শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কুমার দেবনাথ বলেন, আমরা ঘটনার ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করছি। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দলীয় অভ্যন্তরে প্রশ্ন

এ ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপির জেলা পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দলীয় কাউন্সিলেই মহাসচিবের ভাইকে অবরুদ্ধ ও হামলার শিকার হতে হয়? একইসঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিরাপত্তা ও সংগঠনের শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।

ঘটনার পর থেকে বালিয়াডাঙ্গী এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য ছিলো কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমান: হাসনাত
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ৪ আওয়ামী জঙ্গি শনাক্ত
এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে নেতৃত্ব
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
মুচলেকা দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট ভিসি
ড. ইউনূসের হেনস্তার দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: নাহিদ
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, সরকারের নিন্দা
ড. ইউনূস ভালো আছেন, কোনও ক্ষতি হয়নি: লামিয়া মোরশেদ
মোদিবিরোধী আন্দোলনে বাজলো হাসিনাবিরোধী প্রতিবাদী গান
পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার
ওয়ান ব্যাংকে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ
বিএনপি’র সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই
ইরানে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ
টেস্টে লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড
চুয়েটে ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ ১১ জন
নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা