Sobar Desh | সবার দেশ মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:২৩, ৪ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ০০:৪৪, ৪ আগস্ট ২০২৫

একপক্ষের মানববন্ধন ও ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের হুমকি

আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে উত্তাল মেঘনা, দুই পক্ষ দুই পথে

আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে উত্তাল মেঘনা, দুই পক্ষ দুই পথে
ফাইল ছবি

মেঘনা উপজেলাকে নিয়েই ফের নতুন বিতর্কে কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে কুমিল্লা-২ ও কুমিল্লা-১ আসনের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত ইস্যু। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত খসড়া তালিকায় মেঘনাকে কুমিল্লা‑১ (দাউদকান্দি‑মেঘনা) আসনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব তুলে ধরেছে, যা মেঘনার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। 

একদিকে সাবেক বিএনপি নেতা রমিজ উদ্দিন লন্ডনী ও তার সমর্থকেরা এ খসড়া স্বাগত জানিয়ে আসন পুনর্বহালের দাবি তোলেন, অপর পক্ষে উপজেলা বিএনপি ও স্থানীয় জনতার বড় অংশ সতর্কভাবে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানায়।

কিছু দিন ধরে দুই গ্রুপে সাংগঠনিক সভা, সংবাদ সম্মেলন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় বইছে। সবার চোখ এখন ১০ আগস্ট ঘোষণা করা হবে এমন গেজেট প্রকাশে।

একদিকে রমিজ উদ্দিন ও সমর্থকদের দাবির সারমর্ম

গত শুক্রবার মেঘনা উপজেলার একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় সাবেক বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী বলেন, 

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ আসন থেকেই একাধিকবার এমপি হয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। ২০০৮ সালে ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচনে সুবিধা নিতে আসনের সীমানা বদলে দিয়েছিলো। 

তারা মনে করেন নির্বাচন কমিশনের এ খসড়া কিছুটা হলেও সেই ইচ্ছাকৃত অবিচার সংশোধন করার উদ্যোগ।

রমিজ উদ্দিন ও তার অনুসারীরা বলেন, গত দিনের রাজনৈতিক স্বার্থবাদের কারণে সীমানা পরিবর্তন হয়, এখন তা পুনর্বহাল হলে শুধু রাজনৈতিক নয়, মেঘনার উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং মর্যাদা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সংহতির আহ্বান জানান, ১০ আগস্ট গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন না করে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।

অন্যদিকের দাবি ও যুক্তি: ইতিহাসের স্বাক্ষর ভুলে যাওয়ার প্রতিবাদ

পরদিন শনিবার মানিকারচর বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব মো. আজহারুল হক শাহীন ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, 

ভোটার সংখ্যা গুণে মেঘনাকে দাউদকান্দির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা, ইতিহাস ও জনগণের চাহিদা উপেক্ষা করা হয়েছে।

তারা যুক্তি দেখান: হোমনা ও মেঘনা দীর্ঘদিন প্রকৃত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক একতা ছিলো, বিচ্ছিন্ন করলে তা জনগণের ইচ্ছার প্রতি অবজ্ঞা। এ খসড়া বন্ধ না হলে ৭ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের সামনে মানববন্ধন ও ১০ আগস্ট ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হবে বলে জানান।

মানুষের চাওয়া: আসন বিচ্ছিন্ন না করে ঐতিহ্য রক্ষা

সোরগোল থামে না—স্থানীয় বাজারে, সোশ্যাল মিডিয়ায়, সরেজমিন দেখা গেছে, মেঘনার ভালো মানুষদের অধিকাংশই চান হোমনা ও মেঘনা একসঙ্গে—পূর্বের কুমিল্লা‑২ আসন বহাল থাকুক। একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, হোমনা যেতে রিকশায় যাওয়া যায়, সরাসরি পাকা রাস্তাও আছে। কিন্তু দাউদকান্দি যাবেন? সে জন্য সিনাই বা তিতাস হয়ে বা ভাটেরচর দিয়ে ঘুরে যেতে হয়! এ যাতায়াতের বাস্তবতা জনমনে সীমানা সংযুক্তির বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

রাজনৈতিক সমীকরণ: দুই দলের বিভাজন ও ব্যক্তিগত স্বার্থ?

রাজনৈতিক সমীকরণটা জটিল: বিএনপির অধিকাংশ দায়িত্বশীল নেতা হোমনা-মেঘনা একত্রে আসন বহাল রাখতে চান, কিন্তু রমিজ উদ্দিন ও তার অনুসারীরা দাউদকান্দি-মেঘনা চান। অনেকে অভিযোগ করেন, রমিজ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থে এ প্রস্তাব করছেন—‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে অংশগ্রহণ’ করে নিজের রাজনীতি বাঁচাতে নানা পরিকল্পনা করছেন।

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও এন্তার অভিযোগ রয়েছে—যেমন হোমনা-মেঘনা আসন থাকলে তার এমপি হওয়া সুবিধাজনক, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের সাহায্য করেন—এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। কিন্তু এসব অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষ নিজের ভোটের হিসাব নয়— ইতিহাস ও আসলের সীমানা চায়।

ইতিহাসের নির্দেশনা: সীমানার বিচ্ছিন্নতা কী অযৌক্তিক?

১৯৫৪ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত মেঘনা হোমনার অংশ হিসেবে কুমিল্লা‑২ আসনে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯৮ সালে প্রশাসনিকভাবে মেঘনা আলাদা হলেও সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় হোমনা-মেঘনার অংশ ছিলো। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে এক মহলের চাপে মেঘনাকে দাউদকান্দি সঙ্গে যুক্ত করা হয়, – যেখানে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ছিলো না। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আবার হোমনা-মেঘনা একসঙ্গে কুমিল্লা‑২ আসনে ভোট হয়। তাই বর্তমানে প্রস্তাবিত পরিবর্তনে প্রায় সবাই অনিশ্চয়তায় ভোগে।

আগামী কি? ১০ আগস্ট গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেবে চূড়ান্ত

ইসি গেজেট ১০ আগস্ট প্রকাশের পরই আসন সীমানার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে—এটি শুধু একটি মানচিত্রের পরিবর্তন নয়, মানুষের মানসিক সীমানায়ও স্তর খোঁড়ার মতো। তাই মেঘনার মানুষের প্রার্থনা এখন একটাই: ‘ভোটের হিসাব নয়, ইতিহাস যেন কেউ ভুলে না যায়।’

তুলনামূলক টেবিল: ১৯৯৮ বনাম ২০২৩ বনাম ২০২৫ (প্রস্তাবিত)

| বছর         | আসনের সংযুক্তি                  | আওতাভুক্ত উপজেলা  | যোগাযোগ বাস্তবতা                |
| ----------- | ------------------------------- | ----------------- | ------------------------------- |
| ১৯৯৮        | হোমনা + মেঘনা (কুমিল্লা‑২)      | হোমনা, মেঘনা      | সরাসরি রাস্তাপথ                 |
| ২০২৩        | হোমনা + মেঘনা (কুমিল্লা‑২)      | হোমনা, মেঘনা      | উন্নত যোগাযোগ                   |
| ২০২৫ (খসড়া) | দাউদকান্দি + মেঘনা (কুমিল্লা‑১) | দাউদকান্দি, মেঘনা | যোগাযোগ জটিল, সরাসরি রাস্তা নেই |

উপসংহার: যুক্তি ও আবেদনের মিলন — ইতিহাস রক্ষা ও জনগণের আস্থা

এ প্রস্তাবিত boundary redraw নিয়ে দুই পক্ষ—এক পক্ষ তাইলে বিশ্বাস করছে এটি রাজনৈতিক উপার্জনের অভিনব কৌশল; অন্য পক্ষ মনে করছে এটি ইতিহাস পুনঃস্থাপন ও সামাজিক ঐক্যের প্রতিফলন। কিন্তু কথার বাইরেই মানবিক অনুভবের মিক্সচার অনেকেই নির্ধারণ করবে জনগণের সিদ্ধান্ত।

হোমনা-মেঘনা একসঙ্গে আসন না থাকলে সাংস্কৃতিক ঐক্য, যোগাযোগের প্লাটফর্ম, মানুষের মূল্যবোধ—সব কিছুই নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা আছে। অন্যদিকে দাউদকান্দি‑মেঘনা যুক্ত হলে নতুন রাজনৈতিক অঙ্গনে শক্ত কেন্দ্র গঠন হবে—এর জন্ম হতে পারে ব্যক্তিস্বার্থেরও।

সর্বশেষ, আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশিত গেজেট আসন চূড়ান্ত করবে। কিন্তু আসল যেটা—বলছে মেঘনার মানুষ:

ভোটের হিসাবে নয়, আমাদের ইতিহাস ও মনোস্তত্ব যেন কারো সিদ্ধান্তে চাপা না পড়ে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন