জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়
চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম হত্যার মূল ঘাতক জয়নাল গ্রেফতার
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিলো। ওইদিন নগরীর মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান চট্টগ্রাম কলেজের মেধাবী ছাত্র ও ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। এ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত এবং সরাসরি অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম ১১নং ইউনিয়ন সুয়াবিল ফটিকছড়ির বিনাভোটের অবৈধ চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জাহেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
১৬ জুলাইয়ের সে রক্তঝরা বিকেল
গত ১৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে মুরাদপুর, ২ নং গেট ও ষোলশহর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সে সংঘর্ষে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে অনেক অস্ত্রধারীকে সরাসরি গুলি করতে দেখা যায়। এদের মধ্যেই জয়নাল আবেদীন জাহেদ অন্যতম ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওইদিন জয়নাল ও তার সহযোগীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাহত হয়ে রাজপথেই লুটিয়ে পড়েন ওয়াসিম আকরাম। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৫ আগষ্ট পূর্ববর্তী ছাত্র হত্যা এবং দেশে চলমান গুপ্ত হত্যাসহ বাসে আগুন দেয়ার পিছনে জড়িত অন্যতম এ আওয়ামী সন্ত্রাসী জয়নাল আবেদীন! এরই মাঝে পলাতক নেত্রীর নির্দেশে সে ১৩ বার ঢাকায় প্রবেশ করেছে কখনও বিমানে কখনও দামী প্রাইভেট কার-এ।
নওফেলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জয়নাল নওফেল এর নির্দেশনা ও ভারতে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খুনি হাসিনার মদদে সে এ silent কিলিং মিশনে নেমেছে! তার আরেকটি পরিচয় সে একজন ধর্ষক এবং ১১নং ইউনিয়ন সুয়াবিল ফটিকছড়ির বিনাভোটের অবৈধ চেয়ারম্যান। বিপুল ভোট পাওয়া বিএনপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে জোরপূর্বক পরাজিত দেখিয়ে এতোদিন অবৈধভাবে ক্ষমতায় ছিলো এ সাইকোপ্যাথকিলার সুয়াবিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক জয়নাল। তার এলাকায় অনেক মা বোনের ইজ্জত নষ্টসহ মানুষের জমি জায়গা লুটপাট এর সাথে জড়িত সে। এর বিরুদ্ধে অভিযানে নামলে বিপুল অস্ত্র সহ ও দেশ-বিরোধী ষড়যন্ত্রের তথ্য পাওয়া যাবে।

জয়নাল আবেদীনের গ্রেফতার ও মামলার বিবরণ
ওয়াসিম আকরাম হত্যার ঘটনায় তার মা জোসনা আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খুনি হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জয়নাল আবেদীন জাহেদকে ৪৬ নম্বর আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর, সম্প্রতি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে নিজের নবজাতক সন্তানকে দেখতে এলে স্থানীয় জনতা তাকে চিনে ফেলে এবং আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণ ও সহিংসতায় নেতৃত্ব দেয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম ও বিপ্লবের প্রেরণা
ওয়াসিম আকরাম ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি শুধু একজন শিক্ষার্থীই ছিলেন না, বরং কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সম্মুখভাগে ছিলেন। তার শাহাদাতের মাধ্যমেই চট্টগ্রামে আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নেয় এবং সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। তার স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরীর আমবাগান এলাকার শেখ রাসেল পার্কের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম পার্ক’ করার ঘোষণা দিয়েছে।
বিচার প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা
ওয়াসিম হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, জয়নাল আবেদীনসহ গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী ও অন্য অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ ও শহীদ পরিবারের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ ‘সিরিয়াল কিলার’ ও তার নেপথ্যের কুশীলবদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
সবার দেশ/কেএম




























