মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত
আত্মসমর্পণ করলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের আবেদন করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি প্রসিকিউশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী তামীম জানান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আত্মসমর্পণের আবেদন প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছেছে এবং তা ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায়ের পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
গত বছর নিজের দণ্ডাদেশ স্থগিতের আবেদন জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ। আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল দায়েরের শর্তে তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। এ শর্ত পূরণের অংশ হিসেবেই তিনি এবার আত্মসমর্পণের আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে আবুল কালাম আজাদের সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টি জানানো হয়। ওই আদেশে স্পষ্ট করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করে আপিল না করলে স্থগিতাদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে তিনটি ছিল মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। বাকি চারটি অভিযোগে কারাদণ্ড দেয়ার সুযোগ থাকলেও, সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করায় ট্রাইব্যুনাল ওই অপরাধগুলোর জন্য পৃথক দণ্ড ঘোষণা করেননি। অপর একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তা খারিজ করে দেয়া হয়।
আবুল কালাম আজাদের আত্মসমর্পণের আবেদনের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং তার আপিল শুনানি নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল ও বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষকদের।
সবার দেশ/কেএম




























