Sobar Desh | সবার দেশ আবু ইউসুফ


প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৪:৩৫, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

বিচারহীনতার সামনে হার মানলো এক শহীদের বাবার বিশ্বাস

পতাকা নামলো শহীদ আনাসের কবর থেকে

পতাকা নামলো শহীদ আনাসের কবর থেকে
ছবি: সবার দেশ

একটা রাষ্ট্র যখন ন্যায়বিচার দিতে পারে না, তখন সবচেয়ে আগে ভেঙে পড়ে আদালত না—ভেঙে পড়ে মানুষের ভরসা। আর সে ভরসা যখন মরে যায়, তখন তার কবরেও পতাকা টেকে না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া শহীদ আনাসের বাবা আবেগঘন ভাষায় বলেন, যে বাংলাদেশকে ভালোবেসে আনাস শহীদ হয়েছে, সে ভালোবাসার প্রতীক হিসেবেই কবরটিকে পতাকার রূপ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু বিচার না থাকলে সে প্রতীক ধরে রাখার নৈতিক শক্তিও নাকি আর অবশিষ্ট নেই।

শহীদ আনাসের বাবার এ পোস্ট এখন নীরব কিন্তু নির্মম এক রাজনৈতিক দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছেন—ছেলের কবর থেকে বাংলাদেশের পতাকা সরিয়ে ফেলেছেন। শুধু তাই নয়, কবরের চারপাশের গাছও নিজেই তুলে ফেলেছেন।

কারণ?
যে দেশের জন্য ছেলে মরলো, সে দেশে নাকি বিচার নেই।

এটা কোনও সাধারণ আবেগী স্ট্যাটাস না—এটা রাষ্ট্রের প্রতি এক নাগরিকের শেষ নোটিশ।

রাষ্ট্র যদি হত্যাকারীদের বিচার করতে না পারে, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতীক বহন করার নৈতিক দায়ও কি নাগরিকের থাকে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘শহীদ’ শব্দটা বহুবার ব্যবহার হয়েছে—মঞ্চে, মিছিলে, পোস্টারে, নির্বাচনী ভাষণে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, শহীদের রক্ত দিয়ে রাজনীতি হয়, বিচার হয় না—এমন অভিযোগ এখন আর শুধু বিরোধী রাজনীতির ভাষা না, ভুক্তভোগী পরিবারের মুখেও উঠে আসছে।

আরও পড়ুন <<>> হাদির শাহাদাত দিবসকে ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব দিবস’ ঘোষণার প্রস্তাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা শুধু একটি পরিবারের ক্ষোভ নয়; এটা বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে জমে থাকা বিস্ফোরক হতাশার প্রতিচ্ছবি। কারণ, বিচারহীনতা কখনোও নিরপেক্ষ থাকে না—আজ এক পরিবারের দরজায় আসে, কাল আরেক পরিবারের।

সবচেয়ে নির্মম অংশটা হয়তো পোস্টের শেষ প্রার্থনায়—

একজন বাবা বলছেন, বিচার চাইতে তিনি আর রাষ্ট্রের কাছে যান না, সরাসরি আল্লাহর কাছে যান।

এই জায়গাটাই সবচেয়ে ভয়ংকর। কারণ, যখন নাগরিক রাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারায়, তখন রাষ্ট্রের শক্তি থাকে শুধু কাগজে—মানুষের মনে নয়।

প্রশ্ন এখন খুব সহজ—

বাংলাদেশ কি এমন এক রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে, যেখানে শহীদ তৈরি করা সহজ, কিন্তু শহীদের বিচার করা কঠিন?

আর যদি এমনই হয়, তাহলে ভবিষ্যতের ইতিহাসে হয়তো লেখা থাকবে—

এ দেশে একসময় মানুষ শুধু জীবনে না, মৃত্যুতেও রাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা পেতো না।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘শহীদ’, ‘বিচার’ এবং ‘রাষ্ট্রের দায়’—এ তিন শব্দ বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে যখন একজন বাবা সন্তানের কবরে পতাকা রাখতে পারেন না, তখন প্রশ্নটা আবার নতুন করে ফিরে আসে—

রাষ্ট্র কি শুধুই স্মৃতিস্তম্ভ বানাতে জানে, নাকি ন্যায়বিচারও দিতে পারে?

৩০ জানুয়ারি ২০২৬
সম্পাদক

শীর্ষ সংবাদ:

জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক: মির্জা ফখরুল
দুঃসংবাদ পিছু ছাড়ছেনা জ্যাকলিনের!
সামনে চ্যালেঞ্জিং সময়, দায়িত্বশীল না হলে দেশের ক্ষতি হবে: প্রধানমন্ত্রী
পিএসজির শিরোপা উদযাপন ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে তাণ্ডব
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপের নিচে শতাধিক শিক্ষার্থী
ইরানে হামলা করা উচিত হয়নি: ট্রাম্প
স্তন ক্যান্সারের লাখো রোগীর কেমোথেরাপি এড়ানোর পথ খুলছে
পিএসজির জয়ে উৎসবের নগরী প্যারিস
হরমুজে কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, নিয়ম ভাঙলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’র হুঁশিয়ারি
পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরবে না উত্তর কোরিয়া
আর্সেনালকে হারিয়ে টানা ইউরোপসেরা পিএসজি
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতা
ডেমরায় হাসপাতালে শিশু ধর্ষণচেষ্টা, ওয়ার্ডবয় গ্রেফতার
শহর পরিষ্কার রাখতে নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগ-বিএনপির এমপিরা আমাকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে চেয়েছিলো: কর্নেল অলি
খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ঘিরে তেহরানে ব্যাপক প্রস্তুতি
বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন জামায়াত নেতার মৃত্যু
সমাজে একজন জিয়া গড়ে উঠলেই যথেষ্ট: ডেপুটি স্পিকার
১০ কোটি টাকা আমাকে দেয়া হয়নি, বরাদ্দ গেছে উপজেলায়: হাসনাত
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আজ