মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ক্যাম্পাস
টিউশনে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার জবি ছাত্রী
টিউশনি করতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের কাজ শুরু করেছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টা ৫০ মিনিটে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোর্তজা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাটি ধরা পড়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হবে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, গেন্ডারিয়া থানার ১১৯/ডি/৩, ডিস্টিলারি রোড এলাকার বাসিন্দা মো. নাসির হোসেনের সন্তানকে তিনি নিয়মিত প্রাইভেট পড়ান। রোববার রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে ওই বাসায় যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় ওই ব্যক্তি তার পথরোধ করে মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন নিজেকে ‘সিফাত’ পরিচয় দিয়ে সে তার হাত ধরে ফেলে এবং প্রতিবাদ করলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। শিক্ষার্থী চিৎকার করলে অভিযুক্ত দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তিনি ঘটনাটি জানান। পরে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার দৃশ্যও পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। গেন্ডারিয়া থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে রাত পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী ধূপখোলা মাঠ ঘুরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তারা অপরাধীর দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন মিয়া বলেন, ৫ আগস্টের পর বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। অপরাধীরা শাস্তি না পেলে তাদের সাহস বেড়ে যায়। এর ফলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য মাসুদ রানা বলেন, জবিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা মেসে থেকে টিউশনি করে পড়াশোনা চালায়। কিন্তু সেই টিউশনিও আজ নিরাপদ নয়। প্রশাসনকে দ্রুত অপরাধীকে গ্রেফতার করতে হবে।
শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিব বলেন, ইদানীং নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হেনস্তা বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের অনিরাপত্তায় রেখে ভয় দেখানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচার না হলে শিক্ষার্থীরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে।
শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা হলে আমরা চুপ করে থাকবো না। নিপীড়করা ভালো হয়ে যাও, নাহলে জেলে পচে মরবে।
উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যা ৮টার দিকে গেন্ডারিয়া থানার ডিস্টিলারি রোডে অবস্থিত ফজলুর রহমান নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউটের কাছে জবির ওই শিক্ষার্থী শ্লীলতাহানির শিকার হন। রাত পৌনে ১১টার দিকে গেন্ডারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।
সবার দেশ/কেএম




























