সিটি কলেজের অনুপস্থিতি নিয়ে কৌতূহল
ঢাকা কলেজ-আইডিয়াল কলেজের ‘শান্তি চুক্তি’
রাজধানীর তিন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ইতিহাস আছে। প্রায়ই প্রেম, ট্রল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনাকর মন্তব্য থেকে শুরু হয়ে তা রাস্তায় রক্তাক্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ, বিব্রত হয় প্রশাসন।
অবশেষে এ সহিংসতার অবসান ঘটাতে উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট থানা। রোববার (৯ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক ‘শান্তি চুক্তি’ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং কোলাকুলি করে নিজেদের মধ্যে বিরোধ ভুলে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তবে সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউমার্কেট থানার ওসি এ কে এম মাহফুজুল হক। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস, আইডিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেযওয়ানুল হকসহ দুই কলেজের শিক্ষক ও দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।

আইডিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেযওয়ানুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নিজেদের শত্রু বানিয়ে ফেলছে। এর জন্য দায়ী মোবাইল ফোন—যার মাধ্যমে ট্রল, উসকানিমূলক মন্তব্য ও অপব্যবহার থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আমাদের সন্তানদের শিখতে হবে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার।
তিনি ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, আইডিয়াল কলেজের বিরুদ্ধে করা মামলাটি তুলে নেয়া হোক। আজকের বন্ধুত্ব যেন স্থায়ী হয়।
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, আজকের দিনটি আনন্দের। জুলাই অভ্যুত্থানে এ তিন কলেজের শিক্ষার্থীরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে একসাথে লড়েছিলো। পরে তারা ত্রাণও দিয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে বৈরিতা তৈরি হয়েছিলো। নিউমার্কেট থানার ওসি যে এ উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই না আর কোনও সংঘর্ষ ঘটুক। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকুক। মামলা-সংক্রান্ত বিষয়টিও দ্রুত নিষ্পত্তি হোক।

নিউমার্কেট থানার ওসি মাহফুজুল হক জানান, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর দেখি, তিন কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই মারামারিতে জড়ায়—যার কারণ নিজেরাও তারা জানে না। তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করেই এমন হয়। তাই আমি তাদের নিয়ে বসে কথা বলি। তারা রাজি হয় সমঝোতায়, আর আজ তার বাস্তব রূপ।
উল্লেখ্য, গত এক বছরে প্রেম, উসকানি বা অনলাইন ট্রলকে কেন্দ্র করে তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৫টি বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের নানা চেষ্টার পরও স্থায়ী সমাধান আসেনি। তবে এবার ‘শান্তি চুক্তি’কে কেন্দ্র করে সহিংসতার সে সংস্কৃতি বদলের আশা করছেন শিক্ষক, পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা।
সবার দেশ/কেএম




























