উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত কুহেলিকা ১৪৩২
উৎসব, আনন্দ আর হুল্লোড়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পালিত হয়ে গেলো অভয়ারণ্যে কতৃক আয়োজিত কুহেলিকা অনুষ্ঠান। টানা ৩ দিনের আয়োজনে গল্প, আড্ডা, নাচ,গান,আবৃত্তির এক অসাধারণ মেলবন্ধন।
সার বছর ক্লাস, পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন, এসাইনমেন্টের মাঝে এই উৎসবের দিনগুলো যেনো ছেলে-মেয়েরা সব ভুলে আনন্দে মেতে ওঠে। প্রতি বছরের মতো এবছর অভয়ারণ্যের উদ্যগে ২৬,২৭ ও ২৮ জানুয়ারি আয়োজিত হয় কুহেলিকা উৎসব। ছাএ-ছাএীদের পাশাপাশি এ উৎসবে মেতে উঠে ক্যাম্পাসের পাশ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত মানুষগুলোও।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্তর সংলগ্ন বটগাছের নিচে আয়োজন করা হয়েছে এ অনুষ্ঠানের। সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলেছে এ উৎসব। গ্রাম বাংলায় হারিয়ে যাওয়া নাগরদোলা, পরম যত্নে তৈরি করা শীতের পিঠা সহ ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য অভয়ারণ্যে তৈরি করে এক অসাধারণ সুযোগ যেখানে তারা নিজেদের হাতে বানানো পণ্য সরাসরি বিক্রির সুযোগ পান।
প্রযুক্তির পালাবাদলে হারিয়ে যাওয়া চিঠি লেখার চলন ও ফিরিয়ে আনতে দেখা যায় এ অনুষ্ঠানে। সারদিন ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে পিঠাপুলি খাওয়া, স্মৃতির পাতায় তুলে রাখার জন্য ফোনের গ্যালারিতে আবার সেসবের ছবি বন্দি করে রাখা, বিকালে প্রিয়জনের হাত ধরে এক স্টল থেকে অন্য স্টলে ঘুরে চুড়ি কেনা, বন্ধুদের সাথে তাল মিলিয়ে গানের সুরে সুর মেলানো সহ হাজার কল্পিত চিএ তুলে আনে কুহেলিকা।
আয়োজনে নতুনত্বের সাথে প্রতি বছর যুক্ত হয় নানা থিম বা চিএের সম্মেলনে। অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য কে আরো বাড়িয়ে দিতে কুহেলিকার সাথে যুক্ত হয়েছিল স্পার্কেল মিউজিক ও ডান্স এসোসিয়েশন। যাদের জাদুকারী পারফর্মেন্স সকালের মন ভোলাতে যথেষ্ট।
অভয়ারণ্যের আয়োজন ক্যাম্পাসের ছাএ-ছাএীদের পাশাপাশি বাইরে থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের ও দৃষ্টি আকর্ষনে সমর্থ হয়েছে। ৩ দিনের এ আয়োজনে তৈরি হয় ২৮ টি ভিন্ন ভিন্ন স্টল,যেটা নতুন তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ছিলো নিজেদের দক্ষতাকে প্রমান করার এক অসাধারণ সুযোগ। গ্রাম বাংলার সাধারণ ছবিকে নিপুন হাতের কারুকাজে ফুটিয়ে তুলেছে অভয়ারণ্যের সাথে যুক্ত প্রতিটি সদস্য। প্রতি বছরের তুলনায় এ বছেরের আয়োজনে মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। এবং সকলে খুব আনন্দ ও উৎসাহের সাথে এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করে।
কুহেলিকা অনুষ্ঠান সম্পর্কে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাএ মো.নাঈম হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অভয়ারণ্যে কতৃক আয়োজিত কুহেলিকা উৎসব ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা শিক্ষার্থীর খুব কাছের একটি উৎসব, বাঙালি সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাওয়া অনেক জিনিস এখানে যত্নের সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে, এটা সত্যি অসাধারণ একটি আয়োজন ।
শীতের শেষ, বসন্তের আগমনী তে কুহেলিকা উৎসবে মেতেছে সম্পূর্ণ ইবি ক্যাম্পাস। প্রকৃতি পালা বদলের সাথে পুরোনো বছরের বিদায় দিয়ে উৎফুল্লতা দিয়ে নতুন বছরের সূচনা অভয়ারণ্যের হাত দিয়ে।
সবার দেশ/কেএম




























