কিশোরদের ওঠবস করানো নিয়ে বিতর্ক
ডাকসুর নেতা সর্বমিত্র শোকজ ঢাবি প্রশাসনের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠে কয়েকজন কিশোরকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এ শোকজ নোটিশ দেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা গেছে, সর্বমিত্র চাকমার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে—এমন অভিযোগ উল্লেখ করে তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তার আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে।
এর আগে একই ঘটনায় দায় স্বীকার করে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সর্বমিত্র চাকমা। সোমবার দুপুরে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ–২’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে দেয়া পোস্টে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা দাবি করেন, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত চলছিলো। এর ফলে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো একাধিক অভিযোগ ওঠে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। মাঠটি এখনো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি এবং বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপও দেখা যায়নি।
সর্বমিত্র চাকমার ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিতভাবে বহিরাগতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশ করছিলো। নিষেধ করলে তারা তা অমান্য করে উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়ে পালিয়ে যেতো। এমন পরিস্থিতিতে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি কয়েকজনকে কান ধরে ওঠবস করাতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে শোকজ নোটিশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেহেতু তাকে শোকজ করেছে, তাই তিনি লিখিতভাবে প্রশাসনের কাছে জানতে চাইবেন—এ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে শিক্ষার্থীদের যত সাইকেল হারিয়েছে এবং সেন্ট্রাল ফিল্ডে যত মানিব্যাগ, সাইকেল ও মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে, সেসব বিষয়ে কেনো এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। একই সঙ্গে কেনো দেয়াল সংস্কার করা হয়নি এবং শারীরিক শিক্ষা ভবনে মদ্যপানরত অবস্থায় কর্মচারীদের হাতে-নাতে ধরার পরও কেনো তাদের বহাল তবিয়তে রাখা হয়েছে, তারও জবাব চান তিনি।
তবে পোস্টের শেষাংশে সর্বমিত্র চাকমা স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এজন্য তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এদিকে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত সর্বমিত্র চাকমার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও পদত্যাগপত্র জমা দেয়া হয়নি।
সবার দেশ/কেএম




























