নতুন পে স্কেলে বড় স্বস্তি
প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি
সরকারি বেতন কমিশনের নতুন সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। প্রস্তাবিত পে স্কেল অনুযায়ী ১৩তম গ্রেডভুক্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের বর্তমান ১১ হাজার টাকা বেতন বাড়িয়ে ২৪ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে।
বেতন কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হবে। বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিফিন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কথাও সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান গণমাধ্যমকে জানান, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, কমিশন নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের কাজ শেষ করেছে এবং এখন প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সরকার একটি বিশেষ বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করবে।
সূত্র জানায়, গত বছরের ২৭ জুলাই সরকার ২৩ সদস্যের এ বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর নতুন বেতন কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত সময় আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।
কমিশন সূত্র আরও জানায়, কাজ সম্পন্ন করতে নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছে, যা সময় ও ব্যয়—উভয় দিক থেকেই কমিশনের কার্যক্রমকে ব্যতিক্রমী করেছে।
প্রতিবেদন দাখিলের সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, কমিশনের সুপারিশের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সেগুলোর বাস্তবায়ন। এ লক্ষ্যে একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হবে, যারা নতুন পে স্কেল কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে।
বেতন কমিশনের এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে শিক্ষক পেশায় আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























